কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পাচারের সময় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩১ ভরি সোনার গহনাসহ চোরাচালান চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, সৌদি রিয়াল ও সৌদি আরবের তিনটি এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দর সংলগ্ন নতুন ফিশারি ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে কোস্ট গার্ডের কক্সবাজার স্টেশনের সদস্যরা।
আটককৃতরা হলে, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোনারপাড়া এলাকার মো. আজিম (৩৩) এবং একই এলাকার মো. ফারুক (২৮)।
রোববার দুপুরে কোস্ট গার্ডের কক্সবাজার স্টেশন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন কোস্ট গার্ডের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ডের কাছে তথ্য ছিল, কক্সবাজার বিমানবন্দর দিয়ে একটি অসাধু চক্র শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সোনার একটি চালান দেশে নিয়ে আসছে। এ খবরে কোস্ট গার্ডের একটি দল বিমানবন্দর এলাকার বাইরে নজরদারি বৃদ্ধি করে।’
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে নতুন ফিশারি ঘাট এলাকায় একটি মোটরসাইকেলের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সেটিকে থামার নির্দেশ দেন। কিন্তু মোটরসাইকেলের আরোহীরা কোস্ট গার্ড সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া দিয়ে মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয় এবং দুই আরোহীকে আটক করা হয়।
আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আটকদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩১ ভরি স্বর্ণালংকার, চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার ৭৪২ টাকা, ১০ সৌদি রিয়াল এবং সৌদি আরবের তিনটি এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে সোনার চালানটি দুবাই থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। তারা এর আগেও একাধিকবার সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য কোস্ট গার্ডের কাছে স্বীকার করেছে।’
তবে আটকরা দাবি করেছেন, জব্দ করা সোনার গহনা তারা সৌদি আরব থেকে এনেছেন এবং এসবের বৈধ কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে।
আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন।


