ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কনিকা মণ্ডল (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত কনিকা মণ্ডল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। তিনি সদ্যোজাত কন্যাসন্তানসহ তিন সন্তান রেখে গেছেন।
স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য কনিকাকে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় গাইনি চিকিৎসক লক্ষী রানী দত্ত অস্ত্রোপচার করেন। এসময় কনিকা কন্যা সন্তান জন্ম দেন।
তবে অপারেশনের পরদিন থেকেই কনিকার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যেতে থাকে। একই সঙ্গে শুরু হয় তীব্র শারীরিক জটিলতা। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই তাকে রাজধানীর কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৭ জুলাই বিশিষ্ট চিকিৎসক আব্দুল জলিলের অধীনে কনিকার পুনঃঅস্ত্রোপচার করা হয়। স্বজনদের দাবি, ওই অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটের ভেতর থেকে প্রায় দেড় কেজি গজ বের করা হয়।
এরপর দীর্ঘদিন ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কনিকা। শেষ পর্যন্ত বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘আমার দুই মাসের ছোট মেয়েটিকে নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব? আরও দুটি ছোট ছেলে রয়েছে। লক্ষী রানী দত্তের কারণে আমার সংসার ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। আমি এই অবহেলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
তিনি আরও দাবি করেন, চিকিৎসক লক্ষী রানী দত্ত ভুল স্বীকার করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন।’
তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে ফোন কেটে দেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা সিভিল সার্জন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং আদালতের কাছে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল হয়ে থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।


