দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে হাম সন্দেহে ১২ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে মৃত্যু হয়েছে একজনের। এ পর্যন্ত মোট প্রাণ হারানোদের মধ্যে ৮৬ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ছিলেন আর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৭২ জন রোগীর হাম উপসর্গ ধরা পড়েছে এবং ল্যাব পরীক্ষায় ৪৯ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে মোট হাম রোগীর সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।
শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ২২ মে সকাল ৮টা থেকে ২৩ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে মৃতের তালিকায় সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে। দুই বিভাগে সর্বোচ্চ ৪ জন করে মোট ৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও ঢাকা জেলা শীর্ষস্থানে রয়েছে।
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭৮ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৬০০ জন রোগী। দীর্ঘমেয়াদি এই সময়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৯ জনে এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ১১ জন।
বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সংক্রমণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল। ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৪৪ জন হাম সন্দেহ এবং ৪৮ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে, হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৩৭১ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৮৮ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮৩ জন হাম সন্দেহ রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহে ৪৪, বরিশালে ৪৩ জন, খুলনায় ৬৪ জন, সিলেটে ১৪৪ জন, রাজশাহীতে ৩৪ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৬ জন নতুন হাম উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে।


