প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
একই সঙ্গে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে সব হাউসবোট মালিক ও ট্যুর অপারেটরকে জেলা প্রশাসনের কাছে নিবন্ধনের আবেদন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। রোববার রাত ৮টার দিকে বিজ্ঞপ্তিটি জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসিএ ঘোষিত এলাকার অভ্যন্তরে সব ধরনের ব্যক্তিগত হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ থাকবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি হাউসবোট ও নৌযানে পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখতে হবে। উচ্চস্বরে গান বাজানো, মাইক ব্যবহার এবং কোনো ধরনের পার্টির আয়োজন করা যাবে না। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি নৌযানে বিশুদ্ধ পানির জন্য ফিল্টারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের পাশাপাশি বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য অন্তত দুটি ডাস্টবিন রাখতে হবে। কোনো ধরনের বর্জ্য হাওর বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না।
জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, প্রতিটি ভ্রমণ শেষে হাউসবোটের মালিক ও ট্যুর অপারেটরদের যথাযথভাবে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি আকস্মিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে সব হাউসবোট ও ট্যুর অপারেটরকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে সংশ্লিষ্ট হাউসবোট বা নৌযানকে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


