নেত্রকোনার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা সদর থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
মামলার এজাহারে রিপন মিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী (১৩) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত রিপন মিয়া (৩০) সদর উপজেলার নন্দুরা গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘রিপন ভিডিও’ নামে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে রিপনের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার রাতে মেয়েটির বাড়ির পেছনে তাকে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বসে।
স্থানীয়দের দাবি, ওই সালিশে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়।
সোমবার দিবাগত রাতে সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপর থেকে রিপন আত্মগোপনে রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ভিডিওটি নজরে আসার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রিপন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘটনার পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
রিপনের স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানেন না। মানুষের মুখে বিষয়টি শুনেছেন। তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, ঘটনাটি অন্যায়ভাবে রিপনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কনটেন্ট তৈরির সূত্রে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর তাদের পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই যাতায়াত ছিল।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, তিনি ও তার স্বামী কাজের কারণে বাড়িতে না থাকায় প্রথমে বিষয়টি জানতে পারেননি। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার কথা শোনেন। এরপর মেয়ের কাছ থেকে অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।


