কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের জোরালো অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি জানান, রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’-গুলোর একটি চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে উপসাগরীয় মিত্রদের পরামর্শ এবং ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়ায় তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, সোমবার থেকেই নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। যদিও এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নিউ জার্সির থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানতে চান, সামরিক হামলা নাকি কূটনৈতিক সমাধান, তারা কোনটি বেশি ভান। জবাবে সৌদি নেতৃত্ব হামলার পরিবর্তে সমঝোতার পক্ষেই মত দেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা ছিল, নতুন হামলা শুরু হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে এবং এর পরিণতি আরও কঠিন হবে। তিনি বলেন, সৌদি আরবও বিশ্বাস করে যে সমঝোতা এখন নাগালের মধ্যে রয়েছে।
শনিবার সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো পাঁচ মাসের এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতার বিষয়ে একমত হয়েছে।
এর একদিন আগেই অবশ্য ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, তিনি আলোচনার প্রতি ‘আস্থা হারাচ্ছেন’ এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাবে। ফলে তার সর্বশেষ অবস্থানকে নতুন নীতিগত মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের অবস্থায় হরমুজ প্রণালি আর ফিরে যাবে না। তিনি জানান, ওমানের সঙ্গে নৌ চলাচল নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইরান বিস্মিত নয় এবং সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
একজন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী কর্মকর্তা জানান, সর্বশেষ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর আঞ্চলিক হামলা বন্ধ এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও ইরানের তেল রপ্তানির সুযোগ পুনর্বহালের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি এবং মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


