নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে হেলাল উদ্দিন নামে এক জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে। গ্রাম্য সালিসে তাকে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আদর্শ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন একই এলাকার একজন পল্লী চিকিৎসক। স্থানীয়দের দাবি, তিনি সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে এক শিশু পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মশলা কিনে বাড়ি ফেরার পথে হেলাল উদ্দিন তাকে দোকানে ডাকেন। এ সময় শিশুটির সঙ্গে তার আরও এক ছোট বোন ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ছোট বোনকে সামনে বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে যান তিনি। সেখানে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করলে শিশুটি চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিকালে স্থানীয়ভাবে একটি গ্রাম্য সালিস বৈঠক করা হয়।
গ্রাম্য সালিসে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, শিশুর পরিবারের অনুরোধে সালিসের আয়োজন করা হয়। সালিসে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিত হয়নি। তবে শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থিত সবার সম্মতিতে হেলাল উদ্দিনকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ভুক্তভোগীর পরিবার দরিদ্র এবং অসহায়। তাই তারা প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল।
অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো কাজ করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
হরণী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার বিচার গ্রাম্য সালিসে বা ইউনিয়ন পরিষদে করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করতে চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


