কানাডিয়ান ডলারের (লুনি) দরপতনের প্রভাবে জুন মাসে বিশ্বের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বেড়েছে। একই সময়ে দেশটির রপ্তানি ও আমদানি—উভয়ই সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে পণ্য রপ্তানি আগের মাসের তুলনায় শূণ্য দশমিক চার শতাংশ এবং আমদানি শূণ্য দশমিক দুই শতাংশ বেড়েছে। ফলে মে মাসের তিন দশমিক সাত বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন দশমিক নয় বিলিয়ন ডলারে। এ নিয়ে টানা চতুর্থ মাসের মতো বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে কানাডা।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা জানায়, জুনে কানাডিয়ান ডলারের গড় বিনিময় হার ছিল প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৭১ সেন্ট, যা মে মাসের তুলনায় প্রায় এক দশমিক সাত সেন্ট কম। ২০২২ সালের অক্টোবরের পর এটিই লুনির সবচেয়ে বড় মাসিক দরপতন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বেশির ভাগ লেনদেন মার্কিন ডলারে হওয়ায় কানাডিয়ান ডলারের অবমূল্যায়ন রপ্তানির মূল্যকে কানাডিয়ান ডলারে বাড়িয়ে দেখিয়েছে। ফলে রপ্তানি ও আমদানির ডলারমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে বাণিজ্য উদ্বৃত্তও বেড়েছে।
তবে মার্কিন ডলারের হিসাবে চিত্রটি ভিন্ন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জুনে প্রকৃত রপ্তানি দুই শতাংশ এবং আমদানি দুই দশমিক এক শতাংশ কমেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বেশির ভাগ লেনদেন মার্কিন ডলারে হওয়ায় কানাডিয়ান ডলারের অবমূল্যায়ন রপ্তানিকারকদের জন্য সুবিধা তৈরি করেছে। বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে মার্কিন ডলারে পাওয়া অর্থ কানাডিয়ান ডলারে রূপান্তরের সময় বেশি মূল্য পাওয়ায় রপ্তানি ও আমদানির কানাডিয়ান-ডলার হিসাব বেড়েছে।
কানাডা মূলত সোনা ও কপার রপ্তানির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ এ আই ডাটা সেন্টার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরঞ্জাম আমদানি বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শুল্ক বা ট্যারিফ-এর ঝুঁকি সামলাতে বিশ্ববাজারে বাণিজ্যিক পরিধি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা দিতে কানাডা সরকার সম্প্রতি ‘স্ট্রাটেজিক এক্সপোর্ট অফিস’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে।


