রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে লক্ষ্যভিত্তিক পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিক ও কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্য শহর ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।
এক বিবৃতিতে শনিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার বেসামরিক জনগণ ও বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাবে রুশ বাহিনী কিয়েভ ও ইউক্রেনের অন্য শহরের সামরিক স্থাপনাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতির বরাতে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও বিদেশি নাগরিকদের ইউক্রেনে অবস্থান বা দেশটিতে ভ্রমণ না করার সতর্কতা দিয়েছে। এই সতর্কতার আওতায় বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কর্মীরাও রয়েছেন।
মন্ত্রণালয় বলেছে, যারা এই সতর্কতা উপেক্ষা করবেন, যেকোনো বিরূপ পরিণতির দায় পুরোপুরি তাদেরই বহন করতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অবকাঠামোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। শনিবারের একটি বিমান হামলায় নিপ্রো নদীর ওপর একটি সেতুতেও আঘাত হানা হয়েছে। আসন্ন নভেম্বর-ডিসেম্বরে কনকনে শীতের কঠিন সময় সামনে রেখে রুশ হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি কিয়েভের প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দার দৈনন্দিন জীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চলতি সপ্তাহে এক হুঁশিয়ারিতে বলেছেন, রাশিয়ার ওপর হামলার মূল্য ইউক্রেনকে দিতে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দিতে হবে। রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কৃষ্ণসাগরে একে অপরের শস্যবাহী জাহাজেও হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।
একই সময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য স্থাপনা ইউক্রেনের গোলাবর্ষণের শিকার হচ্ছে। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় বেসামরিক মানুষও নিহত হচ্ছেন।
তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই বেসামরিক মানুষ বা বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


