লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে দুটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পাঠানো শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিনের সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ক্লিনিক দুটি হলো ভেদরগঞ্জ মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক এবং ভেদরগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক।
এতে বলা হয়, ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পত্রে জানিয়েছেন, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় একটি নির্দিষ্ট সোর্স (মডার্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক) থেকে এক্সট্রাপালমোনারি টিবি কেইস অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ বিষয়ের অনুসন্ধানপূর্বক যাচাই ও তদানুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করায় সিভিল সার্জন এক্সট্রাপালমোনারি টিবি রোগের উৎপত্তির কারণ উদঘাটনের জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। ওই তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি বিগত ২০ জুন থেকে মডার্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক উপস্থিত হয়ে তদন্ত বা অনুসন্ধান করেন।
তদন্ত কমিটি তাদের মতামতে উল্লেখ করেন, ওই ক্লিনিকে ৫৩ জন রোগী ইতোমধ্যে এক্সট্রাপালমোনারি টিবিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর উৎস এখনো নিশ্চিত নয়, উৎস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আগত অন্যান্য রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ প্রতিরোধের স্বার্থে উক্ত ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সুপারিশ করেন। সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এক্সট্রাপালমোনারি টিবি রোগের উৎপত্তির কারণ উদঘাটন ও সংক্রমন বিস্তাররোধের স্বার্থে মডার্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের সম্পূর্ন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
তা ছাড়া পাঁচ কর্মকর্তার সমন্বয়ে এক্সট্রাপালমোনারি টিবি রোগের উৎপত্তির কারণ অনুসন্ধানে টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া, মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের লাইসেন্স ২০২২-২০২৩ পর্যন্ত আছে। সেইসঙ্গে অনলাইনে ২০২৩-২০২৪ বছরের আবেদন ইনেসপেকশন এ রয়েছে।
এতে বলা হয়, ক্লিনিকটি পূর্বেই বন্ধ ছিল। ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিকের লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে ডায়াগনষ্টিকটি সীলগালা করে ১ আগস্টে বন্ধ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ভেদরগঞ্জ পপুলার ডায়াগনষ্টিক অ্যান্ড ক্লিনিকের ২০২২-২০২৩ এর আবেদন নতুন হিসাবে করা কখনো লাইসেন্স পায়নি। ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তি আছে। বাকি সব কাগজ (পরিবেশ/নারকোটিক) ছাড়পত্র নেই, শুধু আবেদন করা।
ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিকের লাইসেন্স না থাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে ডায়াগনষ্টিকটি তাৎক্ষনিক ১ আগস্ট সিলগালা করে বন্ধ করা হয়। ক্লিনিকে রোগী ভর্তি থাকায় নতুন রোগী ভর্তি না করার জন্য নির্দেশনা দেন এবং ভর্তি করা রোগীর চিকিৎসা শেষে আগামী ৮ তারিখ ক্লিনিকটি বন্ধ করে সিলগালা করার নির্দেশনা দেন, বলা হয় চিঠিতে।
এর আগে, শনিবার দুপুরে ভেদরগঞ্জ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো মান না থাকায় এই দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেন তিনি।


