টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহন ধীরগতিতে চলছিল, যা হাজারো যাত্রীকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন আমতলী এলাকায় ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিতে সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গর্তের কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চলার পাশাপাশি কিছু চালক উল্টো পথে যাতায়াত শুরু করলে চট্টগ্রামমুখী লেনেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় দিকেই যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মহাসড়কে আটকে পড়া লরি চালক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পৌঁছাতে অতিরিক্ত কয়েক ঘণ্টা সময় লাগছে, এতে জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।’
অন্য এক লরি চালক হোসাইন মোর্শেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মহাসড়কজুড়ে বড় গর্ত থাকায় পণ্যবোঝাই গাড়ি বারবার ডানে-বামে নেওয়া যাচ্ছে না, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
ঢাকা থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে আসা বাসযাত্রী ঝর্ণা আক্তার বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটার পথ এগোতে পেরেছি। ভোর ৬টায় রওনা দিয়েছি, কখন গন্তব্যে পৌঁছাব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
বাসচালক আজমীর হোসেন জানান, চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টায় কুমিল্লা পৌঁছাতে পারলেও কখন ঢাকা পৌঁছাবেন তা নিশ্চিত নন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্ষা মৌসুম এলেই আমতলী এলাকায় এমন ভোগান্তি দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় আটকে থেকে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ছেন নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা। তারা দ্রুত মহাসড়ক সংস্কারের দাবি জানান।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমতলী এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। কাজ শেষ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ১০৫ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ চলছে এবং খুব শিগগিরই তা শেষ হলে ভোগান্তি কমে আসবে।


