ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তাতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সেই সঙ্গে ওই মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে বলা কথা ভারত সরকার সমর্থন বা অনুমোদন করে না বলেও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এসব কথা বলেন।
গত বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।
এই আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার আগেই আপত্তি জানিয়েছিল এবং সতর্ক করেছিল, ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালে তা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। তবে আপত্তি সত্ত্বেও অডিও কলে যুক্ত হয়ে সেখানে বক্তব্য দেন হাসিনা।
এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান। এই ঘটনার ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এ বিষয়ে ভারতের ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র জয়সোয়াল বলেন, ‘আয়োজনটি ছিল একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থার উদ্যোগ, এতে সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। আয়োজন শুরুর আগে আমরা মনোভাব স্পষ্ট করেছিলাম। বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত (ডিউলি কনস্টিটিউটেড) সরকারের বিরুদ্ধে যা কিছু বলা হয়েছে, ভারত সরকার তার কিছুই সমর্থন বা অনুমোদন করে না।’
অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সজীব ওয়াজেদ জয় মন্তব্য করেছিলেন, ‘বাংলাদেশ দ্রুত আরেকটি পাকিস্তান হতে চলেছে’। এই অভিযোগের বিষয়ে ভারতের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের যেকোনো ঘটনা বা গতিবিধির ওপর সর্বদা তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়। ভারত তার রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ নেয়।’ তবে জয়ের বক্তব্য সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান করা নিয়ে আলাদা কোনো মন্তব্য করেননি মুখপাত্র।


