পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশে একাধিক আত্মঘাতী ও ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় বেসামরিক নাগরিকসহ ৩৩ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। হামলার জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৯২ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দিনটিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে বিদ্রোহীদের জন্য এককভাবে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল।
বেলুচ বিদ্রোহীরা এদিন বেসামরিক নাগরিক, উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগার, পুলিশ স্টেশন এবং আধাসামরিক বাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এতে ১৮ বেসামরিক নাগরিক, ১৫ নিরাপত্তা কর্মী এবং ৯২ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।
বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এবং পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) প্রায়ই বেলুচিস্তানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। কিন্তু এই মাত্রার সমন্বিত হামলার ঘটনা বেশ বিরল।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় বেলুচিস্তানজুড়ে অন্তত ১৩৩ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৯২ জনই মারা গেছে শনিবার।
দেশটির সেনাবাহিনী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির অভিযোগ, এই হামলার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে।
যদিও এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে ওঠা এমন অভিযোগ সবসময়ই নয়াদিল্লি পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে।
দেশটির নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই আত্মঘাতী ও বন্দুক হামলার দায় স্বীকার করেছে।
তারা কিছু ব্যাংকে লুটপাট চালিয়েছে এবং একটি পুলিশ স্টেশনসহ কয়েক ডজন যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে হামলার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে নারীদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ভিডিওর মাধ্যমে বিদ্রোহীদের মধ্যে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা চালানো হয়েছে।


