চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। তিনি বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়ার স্থলাভিষিক্ত হবেন।
সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
মুহাম্মদ সায়েম বর্তমানে চুয়েটের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতিও। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রশাসনিক, একাডেমিক ও নীতিনির্ধারণী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রকৌশল সংগঠনের ফেলো ও সদস্য।
১৯৮০ সালের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নাইখাইন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। তার বাবা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক উপকর কর্মকর্তা ছিলেন।
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০০৫ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় (সিকিউ ইউনিভার্সিটি) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
গবেষণার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ সায়েমের আগ্রহের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে টেকসই জ্বালানি, গ্রিন হাইড্রোজেন, নবায়নযোগ্য শক্তি, শক্তি রূপান্তর প্রযুক্তি, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, জৈব জ্বালানি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকীতে তার একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
পিএইচডি সম্পন্ন করার পর অস্ট্রেলিয়ার মাইনিং কোম্পানি এমিরান্ডে মেকানিক্যাল ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেও তিনি দেশে ফিরে চুয়েটে শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে অধ্যাপক সায়েম বলেন, ‘বিদেশে থেকে হয়তো নিজের জন্য অনেক কিছু অর্জন করা যেত। কিন্তু আমার অর্জন যদি শিক্ষার্থীদের কাজে না লাগে, যে বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে প্রকৌশলীর পরিচয় দিয়েছে, তার জন্য যদি কিছু করতে না পারি, তাহলে এসবের মূল্য কী! তাই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি, বিশ্বমঞ্চে চুয়েটের নাম ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। উপাচার্য হিসেবে নতুন দায়িত্ব নিয়ে চুয়েটকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। এ জন্য চুয়েট পরিবারের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’


