চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা করার পর চাঁদার অঙ্ক বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড়-ভাটিয়ারী লিংক রোডসংলগ্ন এলাকায় জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ফোনে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আসিফ ও তালহা। এর মধ্যে আসিফকে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে পাঠিয়েছে। তালহাকে সোমবার বিকালে নগরের মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জে। পুলিশের দাবি, হামলার সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও ফোনে হুমকি ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
হামলার ঘটনায় রোববার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন জসিম উদ্দিন। তিনি হাটহাজারীর বড় দিঘিরপাড় এলাকায় চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা করেন। সম্প্রতি তিনি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করেন।
জসিম উদ্দিন বলেন, প্রথমে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে মামলা করার পর আবার ফোন করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে আবারও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে শ্রমিকরা আতঙ্কে কাজে ফিরছেন না। সোমবার সকালেও শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ কাজে আসতে রাজি হননি। হামলার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক ভবনটিতে কাজ করতেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে বড় দিঘী এলাকায় মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, প্রথমে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা হওয়ার পর কাজ বন্ধ রাখার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়টি ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে যাচাই করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হামলাকারীরা চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগী বলে তথ্য মিলেছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।


