পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ভবদহে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত

পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ভবদহে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত
Advertisement
Advertisement

ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় যশোরের ভবদহ বিল সংলগ্ন অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে জলবদ্ধ হয়ে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও উপাসনালয়।

ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভেসে গেছে শত শত মাছের ঘের।

তবে, পানি নিষ্কাশনের বাধার কারণ চিহ্নিত করে দুর্ভোগ লাঘবে গত রোববার থেকে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। অচিরেই পানির বন্দিদশা থেকে মুক্তি মিলবে বলে সংশ্লিষ্ট আশা কর্তৃপক্ষের।

জানা যায়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে গত বছরের অক্টোবর থেকে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেনাবাহিনীর অধীনে খনন কাজ শুরু হয়। খনন কাজ শেষের সময় চলতি বছরের জুন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ভবদহ সংলগ্ন হরিহর, হরি, তেলেগাতী, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদী এই খননের আওতায় ছিল। এরমধ্যে হরি ও তেলেগাতী নদীর ২০ কিলোমিটার এবং টেকা নদীর ৭ কিলোমিটার খনন কাজ শেষ হয়েছে।

আরও পড়ুন

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ভবদহ স্লুইসগেটের কপাট ওঠা-নামা করছে না। ৪টি পাম্প দিয়ে সেচ কাজ চলছে এবং আরও ৫টি পাম্প স্থাপনের কাজ চলছে। কিন্তু খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেরার খর্ণিয়া তেলেগাতী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে খনন কাজ করায়, বাঁধের বিপরীতে ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার দূরে নদীর বুকে পলি জমায় পানি নিষ্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে অভয়নগর, মনিরামপুর,কেশবপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রাম সম্পূর্ণ ও আংশিক প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে ডহর মশিয়াহাটি, ডুমুরতলা, আন্দা, বারাবাদ, বেদভিটা, হাটগাছা, লখাইডাঙ্গা, সুজাতপুর, আলীপুর, মহিষদিয়া, পোড়াডাঙ্গা,পাড়িয়ালী গ্রামসহ অর্ধশত গ্রামের প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ডুমুরতলা গ্রামের স্কুল শিক্ষক শিবপদ বিশ্বাস বলেন, গ্রামের ৫৫টি বাড়ির মধ্যে ৬টি ছাড়া বাকিগুলো পানিতে প্লাবিত হয়েছে। হরিদাশকাটি ইউনিয়নের সুকৃতি বিশ্বাস জানান, ২২ গ্রামের অর্ধেকই পানিতে নিমজ্জিত।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী জানান, কারণ খুঁজতে গত শনিবার স্পিডবোট নিয়ে নদী পরিদর্শনে বের হন। খর্নিয়ার কাছে যেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, তার বিপরীত পাশের প্রায় ৬শ’ মিটার দূরে তেলেগাতী নদীর বুকে পলি জমায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। কারণ চিহ্নিত করে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলে গত রোববার থেকে ওই পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে স্লুইসগেট দিয়ে পানি নামতে শুরু করেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, বিপুল অংকের টাকা ব্যয়ে নদী খননের পরও নদীতে পলি জমা প্রমাণ করে এই পদ্ধতি কাজে আসবে না। তার মতে, নদীর পলি বিলে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেই জলাবদ্ধতা থেকে নিস্তার পাবে মানুষ। এইজন্য টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট)-এর বিকল্প নেই বলেও দাবি তার।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad