কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার একটি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।
সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। থেমে থেমে চলা সংঘর্ষ বেলা ৩টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন মিরারচর পূর্বপাড়া এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া (৩০) এবং একই এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে হিরণ মিয়া (২৮)।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা জুঁই জানান, সংঘর্ষের পর মাসুদ মিয়া ও হিরণ মিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়। মাসুদ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে মারা যান। গুরুতর আহত হিরণকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, বেলা আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ২৮ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ ছাড়া, আরও কয়েকজন বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশের সীমানাজুড়ে গড়ে ওঠা একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ৩০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি বাজারটির স্থায়ী নামকরণকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে গত রোববার কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই পক্ষের ১০ জন করে অংশ নেন। সেখানে বাজারের স্থায়ী নামকরণের বিষয়ে সমঝোতার আশ্বাস দেওয়া হলেও ২৪ ঘণ্টা না পেরোতে সোমবার সকালে দুই পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ও ১২ আগস্টও একই বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময়ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সোমবারের সংঘর্ষের কারণে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে রেলপথও কিছু সময়ের জন্য অচল হয়ে পড়ে। এতে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেলা ৩টার দিকে ট্রেন চলাচল এবং সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভৈরব থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।


