সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপের পরিকল্পনা ইউজিসির

সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপের পরিকল্পনা ইউজিসির
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রণীত উচ্চশিক্ষা রূপান্তরের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার খসড়ায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার বিধান অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থায় শিক্ষার্থীদের জন্য কাঠামোবদ্ধ ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইউজিসির চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পরও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। এই ব্যবধান কমিয়ে উচ্চশিক্ষাকে আরও কর্মমুখী ও শিল্পবান্ধব করতে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইউজিসি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষাকে কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে কমিশন পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এই পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে স্নাতকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতার বর্তমান অবস্থা ও ঘাটতি চিহ্নিত করতে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করা হবে। সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম, শিক্ষণ-পদ্ধতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় আনা হবে, যাতে স্নাতকেরা পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে ইন্টার্নশিপ কর্মসূচিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সম্পৃক্ত করা হবে। সরকার এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে ইন্টার্নশিপ কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা দেবে। পুরো কার্যক্রমের নীতিগত সমন্বয়, তদারকি ও বাস্তবায়ন সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করবে ইউজিসি, যোগ করেন তিনি।

মামুন আহমেদ আরও বলেন, কেবল বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নয়, বর্তমান বৈশ্বিক কর্মবাজারে ভাষাগত দক্ষতা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সৃজনশীল চিন্তা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতার মতো সফট স্কিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব দক্ষতা বিকাশে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, ইন্টার্নশিপ, গবেষণা সহযোগিতা এবং চাকরির সুযোগ বিনিময়ের জন্য একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও গড়ে তোলা হবে।

তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট, ক্যাম্পাসজুড়ে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই, আধুনিক ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল উদ্দিন আহমেদ লেকচার গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন হাওলাদার।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইয়ারুল কবিরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক রফিকুর রহমান, অধ্যাপক ইশতিয়াক মাহমুদ, অধ্যাপক মামুন রশিদ, অধ্যাপক জেবা ইসলাম সিরাজ, অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম, অধ্যাপক আফতাব উদ্দিন এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন আব্দুল করিম।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad