ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে রাত ১০টার মধ্যে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা শিথিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছে।
‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ নামে আত্মপ্রকাশ করা প্ল্যাটফর্মটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু), হল সংসদ এবং ক্যাম্পাসে সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেত্রীরা রয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য ও প্ল্যাটফর্মটির একজন উদ্যোক্তা হেমা চাকমা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে দাবিগুলো আদায়ে কাজ করার লক্ষ্যেই এ প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছে।
রোববার রাতে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় প্লাটফর্মটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী ও সদস্য হেমা চাকমা, ছাত্রদলের ঢাবি শাখার ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা, কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সানজানা চৌধুরী রাত্রি, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক হুমায়রা উপন্যাস প্রমুখ।
স্মারকলিপি দেওয়ার পরে সাংবাদিকদের সানজানা চৌধুরী রাত্রি বলেন, রোববারের সভায় নারী হলগুলোতে বিদ্যমান বৈষম্য ও হয়রানির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। সেখান থেকেই ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়। প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার কর্মসূচি ঘোষণা করে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয় এবং দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
ফারিয়া ইসলাম মেঘলা বলেন, স্মারকলিপিতে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। এগুলো হলো, ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন (কারফিউ) বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা গেট খোলা রাখা, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ ও অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ছাত্রীদের পরিবারের নারী সদস্যদের হলের কক্ষ পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করবে বলে তাদের প্রত্যাশা।


