ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন অডিটোরিয়ামে ‘জাপান এডুকেশন সেমিনার ২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন জেইউএএবি এবং বাংলাদেশে জাপান দূতাবাস যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেইউএএবি সভাপতি অধ্যাপক এ. টি. এম. জাফরুল আজম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) আব্দুস সালাম এবং বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রধান ইউ আওয়াগি।
উপাচার্য বলেন, জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জন্য সুপরিচিত। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে পড়াশোনা কেবল ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নয়, বরং গবেষণা দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পেশাগত যোগ্যতা, আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেরও সুযোগ।
তিনি বলেন, জাপান সরকারের বিভিন্ন বৃত্তি কর্মসূচি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা-গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত জানা এবং সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার করা প্রয়োজন। ভাষাগত ও আর্থিক কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সঠিক প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তা অতিক্রম করা সম্ভব।
দেশের উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, প্রকৌশল, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। জাপান থেকে অর্জিত জ্ঞান, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেশে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এ লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি কর্মসূচি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সেমিনারে জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ভর্তি প্রক্রিয়া, বৃত্তি, শিক্ষার্থীজীবন এবং বাংলাদেশ-জাপান একাডেমিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, জাপানে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থী এবং জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।


