ফিফা বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোর ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন রেফারি জোয়াও পিনেইরো।
গত ১১ জুলাই ম্যাচের ৭২ মিনিটে লিয়াদ্রো পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করেন পিনেইরো। একই সঙ্গে ভুয়া ফাউলের অভিযোগে এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান তিনি। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। মাঠে ক্যামেরায় দেখা যায়, আঙুল উঁচিয়ে রেফারিকে সম্মান দেখানোর দাবি জানাচ্ছেন মেসি।
মেসি রেফারিকে বলেন, ‘ঠিকভাবে কথা বলুন, আমাকে অসম্মান কোরো না। আমার সঙ্গে সম্মান বজায় রেখে কথা বলুন। আমি আপনার সঙ্গে সম্মান দেখিয়ে কথা বলছি।’
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরেন পিনেইরো। ম্যাচ পরিচালনার নিয়মিত অংশ হিসেবেই দেখেন এই ঘটনা।
পিনেইরো বলেন, ‘মেসি কিছু বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, অন্য খেলোয়াড়রাও বলেছেন। সাধারণত অধিনায়করা রেফারির সঙ্গে বেশি কথা বলেন। নতুন নিয়মে এই সংলাপের সুযোগ রয়েছে। মেসির নাম জড়ানোর কারণে বিষয়টি বেশি মনোযোগ পেয়েছে। বহু ফুটবলারের সঙ্গেই এমন আলোচনা ঘটে। মেসি বা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জড়িত থাকলেই মানুষ ভিন্নভাবে দেখে।’
ভিএআর প্রক্রিয়াকেও সমর্থন জানান এই রেফারি। পারেদেসের ফাউলকে প্রথমে হলুদ কার্ডযোগ্য মনে করলেও ভিডিও ফুটেজে এমবোলোর ভুয়া ফাউলের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। খেলোয়াড়ের আগের কার্ড থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী এই শাস্তি দিতেন বলে নিশ্চিত করেন পিনেইরো।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিল আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। আইনপ্রণেতারা জানান, ভুল খেলোয়াড় চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ভিএআর প্রযুক্তির কার্যকারিতা রয়েছে। তবে অপরাধের ধরন বদলানোর সুযোগ নেই।
মাঠে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথোপকথনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন পিনেইরো।
তিনি বলেন, ‘এগুলো গঠনমূলক আলোচনা। সবাইকে হলুদ কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক নয়। হয়তো তিনি আমার সিদ্ধান্ত ভুল বুঝেছিলেন। আমরা কথা বলেছি, একে অপরকে বুঝেছি, এরপর খেলা চালিয়ে গেছি।’


