প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে শুভেচ্ছা জানাতে বাংলাদেশ সফর করতে চান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ঢাকা-ইসলামাবাদ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তান সরকারের এই বাড়তি আগ্রহকে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার জেদ্দায় অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) ফিলিস্তিন বিষয়ক নির্বাহী বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এ বার্তা পৌঁছে দেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
তিনি আশা করেন, ঢাকায় নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও জোরদার হবে।
কূটনৈতিক অঙ্গনে এটিকে দুই দেশের মধ্যে নতুন উদ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ইসলামাবাদ যে যোগাযোগ শুরু করেছিল, তারই ধারাবাহিকতা এই উদ্যোগ।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক ছিল অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। কূটনৈতিক যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের সফর ছিল সীমিত। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে সক্রিয় ও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে।
নেপালে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাবেক উপ-হাইকমিশনার মাশফি বিনতে শামস বলেন, ‘২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। শেখ হাসিনার আমলে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক অনেকটাই স্থবির ছিল।’
‘ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে’ বলেও মনে করেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং নয়াদিল্লিতে সাবেক উপ-হাইকমিশনার মাহবুব হাসান সালেহ বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে উষ্ণ সম্পর্ক থাকায় পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।’
তার মতে, ইসলামাবাদ বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে আগ্রহী। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রভাবের ভারসাম্য রক্ষায়ও রাজনৈতিক সুবিধা খুঁজছে পাকিস্তান।


