বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পাঁচ মাস অতিবাহিত না হতেই দুর্বৃত্তরা সেতুর নিরাপত্তা রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে সেতুতে সড়কবাতি না থাকায় রাতে সেখানে অপরাধীদের আনাগোনা বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তরা সেতুর বিভিন্ন অংশের নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যায়। অন্ধকারের সুযোগে এমন ঘটনা ঘটলেও সেতুতে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৭ মার্চ সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকেই নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। এখনো সেখানে সড়কবাতি স্থাপন করা হয়নি। ফলে রাতের বেলায় যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অন্ধকারের সুযোগে মাদকসেবীদের আড্ডা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে।
এলাকাবাসীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুতে দ্রুত সড়কবাতি স্থাপন, নিরাপত্তা জোরদার এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। সেটি করা না হলে সরকারি এই অবকাঠামোয় বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দীর্ঘ গোমা সেতুটি পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস কাঠামোয় নির্মিত হয়েছে। এর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৬ দশমিক ৫১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, চারটি ৮ মিটার ও একটি ৬ মিটার আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ, নদীর দুই তীরে প্রায় ১১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার এলাকায় নদীশাসন এবং ৩১ হাজার ৮৮৬ বর্গমিটার এলাকায় কংক্রিট স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম ফকির দাবি করেন, নাদিম, রহিদ ও নেয়ামুল নামে তিন যুবক শুক্রবার রাতে সেতুর মাঝামাঝি অংশে নির্মাণাধীন নিরাপত্তা রেলিংয়ের ২৪টি নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যায়। পরে সেগুলো স্থানীয়দের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সওজ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং এটি উদ্বোধনও করা হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তা রেলিংয়ের কিছু কাজ চলমান রয়েছে। ওই অংশ থেকেই কিছু নাট-বল্টু চুরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে ঘটনাস্থলে সওজের প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গোমা সেতুর মূল প্রকল্পে সড়কবাতি স্থাপনের জন্য কোনো বরাদ্দ ছিল না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সেতুতে সড়কবাতি স্থাপন করা হবে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, গোমা সেতুর নাট-বল্টু খুলে নেওয়ার বিষয়ে সড়ক বিভাগ থেকে আমাদের লিখিতভাবে জানানো হয়নি। জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


