পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পর এবার পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দাদের জন্যও বিনামূল্যে গণপরিবহন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকটে নাগরিকদের স্বস্তি দিতে এই ঘোষণা দেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ।
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘সবাইকে এই সুবিধাগুলো পূর্ণভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও সুবিধাজনক, সাশ্রয়ী ও টেকসই যাতায়াতের জন্য গণপরিবহন বেছে নেওয়ার অনুরোধ করছি।’
এক্সে আলাদা আরেক বার্তায় পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চলমান বৈশ্বিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক তেলের দামের ঊর্ধ্বগতিতে পাকিস্তানও ভুক্তভোগী হচ্ছে। এরইমধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
মরিয়ম নওয়াজের মতে, কেবল পরিবহন খাতই নয়, জ্বালানির ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক। তিনি জানান, কৃষকদের সুরক্ষার লক্ষ্যে পাঞ্জাবে সর্বোচ্চ ২৫ একর জমির মালিক গমচাষিদের প্রতি একরে ১০ লিটার করে ডিজেল ভর্তুকি দেওয়া হবে। এরইমধ্যে কৃষকদের জন্য ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ১৫০ রুপি নির্ধারণ করেছে সরকার।
প্রতিটি কৃষকের পাশে প্রাদেশিক সরকারের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ভর্তুকি কার্যক্রম স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা আমি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছি, যাতে কোনো বিলম্ব ছাড়াই সব যোগ্য কৃষকের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে যায়।’

মরিয়ম নওয়াজ বলেন, ‘কৃষকরাই পাঞ্জাবের মেরুদণ্ড। আমি সবসময় তাদের পাশে থাকব, তাদের অধিকার রক্ষা করব এবং তাদের জীবিকা আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
পাঞ্জাবের কয়েক ঘণ্টা আগেই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি এক ঘোষণায় জানান, রাজধানী ইসলামাবাদে সব ধরনের গণপরিবহনের খরচ বহন করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়া অঙ্গরাজ্যও জ্বালানি সাশ্রয়ে জনগণকে উৎসাহিত করতে গণপরিবহনের ভাড়া মওকুফ করার ঘোষণা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উন্নত দেশগুলোর অনেকেই জ্বালানি সাশ্রয়ে জনগণকে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।


