অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের আরও একটি অনন্য রেকর্ড ভেঙেছেন। তবে ম্যাচ শেষে আলবিসেলেস্তেদের কোচ লিওনেল স্কালোনি স্বীকার করেছেন, তার অধিনায়কের নিত্যনতুন সব কীর্তি নিয়ে প্রতিনিয়ত কথা বলতে বলতে তিনি এখন কিছুটা ক্লান্ত।
ডালাস স্টেডিয়ামে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যাকে ১৮ তে নিয়ে গেছেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি পুরুষ বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড এবং পুরুষ ও নারী মিলিয়ে মার্তার ১৭ গোলের সামগ্রিক বিশ্বরেকর্ড, উভয়কে ছাড়িয়ে গেছেন।
ম্যাচ শেষে মেসির কঠোর পরিশ্রম ও দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্কালোনি। নিজের সাবেক এই সতীর্থ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যখন বল ছাড়া দল কিছুটা কঠিন সময় পার করছিল, তখন ও নিচে নেমে কাজ করেছে, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়েছে। দলের প্রতি ওর নিবেদন বা প্রতিশ্রুতির স্তরটা আপনি মাঠেই দেখতে পেতেন।’
‘এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। দলের প্রতি ওর এই দায়বদ্ধতাই বাকিদের অনুপ্রাণিত করে। লিওকে নিয়ে নতুন করে বলার মতো ভাষা আসলে আমার আর জানা নেই। সারাক্ষণ ওকে নিয়ে কথা বলতে বলতে আমরা এখন কিছুটা ক্লান্তই হয়ে পড়েছি।’
ম্যাচের ৮ম মিনিটে একটি পেনাল্টি মিস করলেও পরবর্তীতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান মেসি। ম্যাচের আধা ঘণ্টার মাথায় গোল করে তিনি ক্লোসে ও মার্তার রেকর্ড ভাঙেন। এরপর খেলা শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে, অর্থাৎ স্টপেজ টাইমে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের দীর্ঘ সময় মাত্র ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও পুরো খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি। শেষ মুহূর্তে মেসির দ্বিতীয় গোলের আগে অস্ট্রিয়ার কেবল একটি বিপজ্জনক শট তিনি দক্ষতার সাথে প্রতিহত করেন।
অস্ট্রিয়ার দেওয়া চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে স্কালোনি বলেন, ‘ম্যাচটি বেশ জটিল ছিল। তবে শেষের দিকে আমরা যে স্বস্তিটা চাচ্ছিলাম, তা পেয়েছি। লিওর পারফরম্যান্সে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, দলের কঠিন সময়ে ও আবারও গোল করে আমাদের বাঁচিয়েছে।’
‘আজ দলকে বেশ ভুগতে হয়েছে। কিছু কিছু সময়ে তারা আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করছিল এবং বল আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তবে চাপের মুখে কীভাবে লড়াই করতে হয় তা এই দল জানে এবং একটি দল হিসেবে এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।’
স্কালোনি আরও যোগ করেন, ‘দল জানে কোন মুহূর্তে কেমন আচরণ করতে হবে। প্রতিপক্ষ দলে বেশ কিছু দীর্ঘদেহী খেলোয়াড় ছিল, যা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। কেউ ভাবেনি এই ম্যাচ সহজ হবে। এখন পর্যন্ত আমরা যে দুটি ম্যাচ খেলেছি, দুটই ছিল ভীষণ জটিল।’
‘জে’ গ্রুপ টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখনো টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার বলে বিশ্বাস করেন স্কালোনি।
তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে কেবল ফেভারিট তকমা বা দলে বড় বড় খেলোয়াড় থাকলেই জেতা যায় না। এখানে আরও অনেক উপাদান কাজ করে, যেমন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক অবস্থা।’
‘শিরোপা জেতার মতো অনেক দল রয়েছে, শেষ পর্যন্ত বড় দলগুলোর মধ্য থেকেই কেউ একজন ট্রফি জিতবে। আমরাও সেখানে থাকব, আমরাও অন্যতম দাবিদার হিসেবে লড়াই করব। তবে এই বড় দলগুলোর মুখোমুখি হওয়াটা কঠিন হবে।’
একটু হেসে স্কালোনি শেষ লাইনে প্রতিপক্ষদের হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তবে আমাদের মুখোমুখি হওয়াটাও কিন্তু তাদের জন্য সমান কঠিন হবে।’


