দিল্লিতে বসে আত্মসমর্পণের কথা বলা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দেশে আর কখনো ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন’ হতে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিভেদের সুর দেখে দিল্লিতে বসে হুঙ্কার ছাড়া হচ্ছে, বলা হচ্ছে আত্মসমর্পণ করবেন। যারা হুঙ্কার দিচ্ছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ থাকবে না। কারণ আইনের কাছে তারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। বাংলাদেশের সীমানায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তারা গ্রেপ্তার হবেন।’
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজের অগ্রগতি তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টির প্রতিবেদন জমা পড়েছে এবং চারটির অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আবু সাঈদ হত্যা ও হাসানুল হক ইনুর মামলাসহ তিনটি মামলার রায় হয়েছে।
তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ৫৯০টি অভিযোগ থেকে প্রসিকিউশন দল ১০৯টি মামলা নির্বাচন করেছে। এর মধ্যে ৪৩টি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং ছয়টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন এবং ৩৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। একজন রাজসাক্ষী খালাস পেয়েছেন। ২৬টি মামলা বিচারাধীন এবং আরও চারটি রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, ‘ফ্যাসিজমের সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে’ এবং বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জুলাই নিয়ে যখন আপনারা কথা বলেন, তখন সন্দেহ তৈরি হয়, এটা কি চেতনা ধারণ করে, নাকি পলিটিক্স করার জন্য?’
তিনি বলেন, ‘গণভোটের মধ্যে প্রতারণামূলক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করে যখন রাজনীতি করা হয়, তখন ভয় লাগে, এটা কি জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন, নাকি অন্য কোনো পথে হাঁটার সুর?’
জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক মিত্রদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপির বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেছিলেন, তার পরিণাম কী হয়েছিল? বিএনপি তার প্রতিদান দিয়েছিল, আপনাদের গাড়িতে ফ্ল্যাগ দিয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ প্রতিদান দিয়েছে, আপনাদের নেতাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা পরীক্ষিত রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও জোট হিসেবে সামনের দিকে এগোতে চাই।’


