নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের ওপর হামলাচেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ভোরে আসামির নিজ বাসা কাশিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেওভোগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম আল আমীন ওরফে আক্কা-বাক্কা আলামিন।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কী কারণে এবং কার নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে তা বিস্তারিত তদন্তের পর জানানো যাবে।
একই দিনে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি সংগঠিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বহিঃপ্রকাশ। হামলাকারীকে আটকের পরপরই কিশোর গ্যাং সদস্যদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া প্রমাণ করে, এ হামলার পেছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে।
এ ঘটনাটিকে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে এনসিপি। দলের নেতারা জানান, আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য সন্ত্রাস, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের যে ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে, নারায়ণগঞ্জের ঘটনাটি তারই অংশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও নির্লিপ্ত ভূমিকায় সন্ত্রাসীরা উৎসাহ পাচ্ছে, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য গুরুতর হুমকি। এনসিপি মনে করে, নির্বাচন বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় কাশিপুর ইউনিয়নে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে।
এনসিপির দাবি, ওই সময় এক যুবক পেছন থেকে আব্দুল্লাহ আল আমিনকে অনুসরণ করছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নেতাকর্মীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কাছ থেকে একটি বড় চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এ সময় যুবকটি পালানোর চেষ্টা করলে এনসিপির দুই কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
আহতরা হলেন ফতুল্লা থানা যুবশক্তির সংগঠক আবু তাহের (২২) ও মহানগর ছাত্রশক্তির যুগ্ম সদস্যসচিব মারুফ (২১)। পরে স্থানীয় লোকজন হামলাকারীকে আটক করলেও মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে তার অনুসারী ‘কিশোর গ্যাং সদস্যরা’ এসে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এ সময় স্থানীয় জনগণ এনসিপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।


