জুনে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা, এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন।
বৃহস্পতিবার দেশটির আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে মৃতের নিশ্চিত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৩০ জনে।
প্রায় এক মাস আগে আঘাত হানা এই দুর্যোগে আরও কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত অবস্থায় রয়েছেন এবং ২১ হাজার ১২০ জন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন।
ভূমিকম্পের পর থেকেই ভেনেজুয়েলার উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা ধীরগতির।
ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত সিনথিয়া পুলিদো বলেন, ‘ভূমিকম্পের পরপরই তাৎক্ষণিক সাড়া মিলেছিল, তবে সেটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম এগিয়ে এসেছিলেন। সরকারের তৎপরতা এখন গিয়ে দেখা যাচ্ছে। আমরা এখনো কোনো কার্যকর জবাবের অপেক্ষায় আছি।’
দুর্যোগের পরপরই ভেনেজুয়েলায় পাঠানো আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের কার্যক্রম শেষ করে ফিরে গেছে। বর্তমানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে ভেনেজুয়েলা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব নিষেধাজ্ঞা দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও সহ-পরিচালক মার্ক ওয়েইসব্রট বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার এমন গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করার অনুমতি দেশটিকে দেওয়া হচ্ছে না।’
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো ভেনেজুয়েলার প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে রেখেছে, যা আইনগতভাবে দেশটির পাওয়ার কথা।
স্পেনের সংবাদপত্র এল পাইস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলের ১৪ জন আইনপ্রণেতা হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ভেনেজুয়েলার পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে তারা বলেন, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা ‘জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে’ এবং ‘দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টাকে গুরুতরভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।’
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।


