লালন সাঁইয়ের আত্মশুদ্ধি, মানবধর্ম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বার্তা ছড়িয়ে দিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বসেছে সাধুসঙ্গ।
১২তম সরল পাগল মেলা ও যুগপূর্তি উৎসব উপলক্ষে মঙ্গলবার দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ মেলা ও সাধুসঙ্গ। ২৪ ঘণ্টাব্যাপী এ আয়োজন বুধবার ভোরে পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
লালন শাহ মাজার শরীফের মাঠের উন্মুক্ত লালন মঞ্চে সকাল থেকে চলে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান ও সাধুসঙ্গ। রাত ৯টার দিকে শুরু হয় লালনসংগীত। এরপর রাতভর বাউল ও লালনের ভাবগানে মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ।
প্রচলিত মেলার চেয়ে এ আয়োজনের আবহ কিছুটা আলাদা। বেচাকেনা বা বিনোদনের চেয়ে এখানে গুরুত্ব পায় লালনের দর্শন, সাধুসঙ্গ, ভাবগান ও আত্মঅনুসন্ধান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধু, বাউল ও লালনভক্তদের মিলনে ছেঁউড়িয়ার মাজার প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে ভাবের এক মিলনস্থল।

রাত গভীর হলে মোমের ক্ষীণ আলোয় গোল হয়ে বসেন সাধু-পাগলরা। কারও হাতে একতারা, কারও হাতে দোতারা। টুংটাং শব্দের সঙ্গে ভেসে আসে লালনের গান। গানের সুর আর দর্শনচর্চায় রাতজাগা এ সাধুসঙ্গ হয়ে ওঠে মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
আয়োজকরা জানান, লালন স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা কুষ্টিয়া ও বাংলাদেশ জাতীয় সাধু সংসদের উদ্যোগে ধারাবাহিক ১১টি আয়োজনের পর এবার যুগপূর্তি উপলক্ষে ১২তম মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলায় রয়েছে সূর্য প্রণাম, প্রভাত প্রজ্ঞা, লালন ফেরী, গোষ্ঠ গান, অতিথি ভোজ, লালন আলোচনা, লালন দর্শন ও লালন বন্দনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি।
লালন স্বেচ্ছাসেবক সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় সাধু সংসদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ মকবুল আহম্মেদ (শাহীবাবা) বলেন, লালন সাঁইজির দর্শন জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে মানবতার কথা বলে। তার আত্মশুদ্ধি ও মানবধর্মের বাণী মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
লালন স্বেচ্ছাসেবক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শান্তি ভিখারি সবুজ বলেন, সাঁইজি লালনের দর্শনের মূল কথা মানবতা ও সম্প্রীতি। ধারাবাহিক এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


