যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি: শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের জন্য দুঃসংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি: শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের জন্য দুঃসংবাদ
ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

বিদেশি শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচির (এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম) অংশগ্রহণকারী ও সাংবাদিকদের ভিসায় নতুন সময়সীমা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় শিক্ষাজীবন শেষ করা বা দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি হারাতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন বিধি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা সাধারণভাবে সর্বোচ্চ চার বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন।

বিদেশি সাংবাদিকদের একবারে সর্বোচ্চ ২৪০ দিনের জন্য দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে চীনা নাগরিকত্বধারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এ সময়সীমা হবে কেবল ৯০ দিন।

এর বেশি সময় থাকতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে অথবা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে আবার প্রবেশের জন্য আবেদন করতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্যমতে, ফেডারেল নিবন্ধনে প্রকাশের ৬০ দিন পর এবং কংগ্রেসের পর্যালোচনা সাপেক্ষে বিধিটি কার্যকর হবে। এর ফলে আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাক্রমে ভর্তি প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনের ওপর ট্রাম্পের বিস্তৃত কঠোর অভিযানের সবশেষ পদক্ষেপ এটি।

এসব পরিবর্তন প্রস্তাব করার সময় দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ‘দীর্ঘদিন ধরে আগের প্রশাসনগুলো বিদেশি শিক্ষার্থী ও অন্য ভিসাধারীদের কার্যত অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দিয়েছে। এতে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে, করদাতাদের অজানা পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা অসুবিধায় পড়েছেন।’

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন নিয়মের ফলে এ ধরনের ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকদের ওপর নজর রাখা সহজ হবে।

আরও পড়ুন

প্রস্তাবিত বিধিতে বলা হয়েছে, ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা কয়েক দশক ধরে সংশ্লিষ্ট মর্যাদার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন।’

দপ্তরটি জানিয়েছে, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা দুই হাজার ১০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষার্থী মর্যাদায় ছিলেন। অর্থাৎ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা নিজেদের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা নিচ্ছেন।

নতুন শিক্ষাক্রমে ভর্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন অথবা শিক্ষাক্রমের মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন।

নতুন বিধিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বদল বা শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের ওপরও কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এসব বিধিনিষেধ বেশি প্রযোজ্য হবে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির  তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী প্রবেশের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখের বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশেরও বেশি।

দপ্তরটি আরও জানিয়েছে, ২০২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ লাখের বেশি বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং প্রায় ৩৭ হাজার ৩০০ বিদেশি সাংবাদিককে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।

দপ্তরটি লিখেছে, ‘এ ধরনের দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে এসব অ-অভিবাসীর ওপর নজরদারি ও তদারকি করা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।’

এর আগে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, গত বছর ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আট হাজার শিক্ষার্থীর ভিসাও রয়েছে।

ওই শিক্ষার্থীদের অনেকের ভিসা তাদের রাজনৈতিক তৎপরতার কারণে বাতিল করা হয়েছে।

অভিবাসন অধিকারকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সতর্ক করে বলেছে, এসব নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা, শিক্ষকতা বা গবেষণা কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

তাদের মতে, ব্যয় বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাক্রমে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগ্রহ কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এসব নীতি দেশটির শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad