নওগাঁ সদর উপজেলায় গ্রাহকের প্রায় চার কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সমবায়ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’।
সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ধামকুড়ি গ্রামে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রাহকের কাছে থেকে সঞ্চয়, ডিপিএস ও আমানত সংগ্রহ করে আসছিল।
স্থানীয়রা জানান, সংস্থার পরিচালক আসাদুজ্জামান টিটু ও সহকারি ম্যানেজার মাসুদ রানা বিদ্যুৎসহ ১০ জন গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও টাকা সংগ্রহের কাজ করে আসছিলেন। তবে ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম হুট করেই বন্ধ হয়ে যায়।
এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আসাদুজ্জামান টিটু ও সহকারি ম্যানেজার মাসুদ রানা বিদ্যুৎসহ সংশ্লিষ্টরা বর্তমানে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিদিন গ্রাহকরা জামানত ফিরে পেতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। কিন্তু কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে ধামকুড়ি গ্রামে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় তালাবদ্ধ দেখা যায়। পরিচালক আসাদুজ্জামান টিটু ও সহকারি ম্যানেজার মাসুদ রানা বিদ্যুতের বাড়িতেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের মানুষদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। প্রতি লাখ টাকায় দুই হাজার টাকা মুনাফার আশ্বাস দিয়ে আমানত নিতেন সমবায় কর্মকর্তারা। ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে অফিস বন্ধ করে পরিচালক ও কর্মকর্তারা আত্মগোপনে চলে যান।
ধামকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, তিনি কর্মজীবনের সঞ্চিত তিন লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানটিতে রেখেছিলেন। টাকার অভাবে তার চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
একই গ্রামের গার্মেন্টস কর্মী সীমা জানান, সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও মেয়ের বিয়ের কথা চিন্তা করে তিনি দুইলাখ টাকা আমানত রেখেছিলেন। এখন টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
আরেক ভুক্তভোগী মারুফা বিবি অভিযোগ করেন, সাত বছর আগে জমা রাখা ৭০ হাজার টাকার পুরোটা তিনি ফেরত পাননি। মাঝে অসুস্থতার সময় টাকা তুলতে গেলেও নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় তাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারির পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে। গ্রাহকদের লাভের টাকা ও আমানত ফেরত দিতে নানা জটিলতা দেখা দেয়। পরে গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠকে পর্যায়ক্রমে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
নওগাঁ সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটিতে একটি অডিটের সময় তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়নি। প্রায় ১৫ দিন আগে সংস্থাটি বাতিলের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’
তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে গেছে কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম। এ ঘটনায় এখনো কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি বলেও জানান তিনি।


