জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার সপক্ষে ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার কথোপনকথনের রেকর্ড উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। কল রেকর্ডগুলোর ফরেনসিক যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কথোপকথনের তথ্য ও রেকর্ড মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দিনের কল রেকর্ড থেকে দেখা যায় সেটি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের। তিন মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের কথোপকথন। সন্ধ্যা ছয়টা ২৩ মিনিটে।
ওবায়দুল কাদের: হ্যালো নাছির, কী করতেছ?
আ জ ম নাছির: জি, আসসালামু আলাইকুম। কালকে থেকে তো ফাইট করতেছি, আজকেও তো ইয়া না সারা পৃথিবী, তো মারামারি এখনো চলতেছে।
ওবায়দুল কাদের: ইউনিভার্সিটিতে না, ইউনিভার্সিটি শিবিরের ঠিক আছে।
নাছির: না, না, না। ইউনিভার্সিটি পুরোপুরি একদম নিয়ন্ত্রণে আছে। ১০০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে। ইউনিভার্সিটি না। চট্টগ্রামে এখন ইউনিভার্সিটি, চিটাগাং কলেজ।
না, না, এগুলাও সব নিয়ন্ত্রণে আছে। ওখানে শুধু একটা জায়গায় মুরাদপুর জায়গায়, ওদের সঙ্গে ফাইট হচ্ছে। ওরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আইসা ওখানে গত প্রায় দুইটা থেকে শুরু হইয়া এখনো পর্যন্ত চলতেছে।
ওবায়দুল কাদের: ওখানে মুরাদপুর আসলে কী হবে?
নাছির: মুরাদপুর একটা জায়গায়, একটা জায়গায়, ছোট্ট একটা জায়গায়। ওখানে ওই একপাশে, আর পুরো চট্টগ্রাম কন্ট্রোলে। পুরো চট্টগ্রাম একদম ইউনিভার্সিটি।
ওবায়দুল কাদের: আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি দিচ্ছি
নাছির: নিশ্চিন্তে থাকেন ১০০ ভাগ নিশ্চিন্তে থাকেন, ইনশাল্লাহ।
জাহাঙ্গীর কবির নানক: কে, কে নাছির নাকি?
ওবায়দুল কাদের: হ্যাঁ, নাছির।
নাছির: জি, জি আসসালামু আলাইকুম, ভাই।
নানক: কী অবস্থা?
নাছির: আমাদের এখানে পুরোপুরি ঠিক আছে। শুধু মুরাদপুর একটা জায়গায়, শিবির ওই দিকে একটা অবস্থান নিছে। ওরা ওইখানে এ পর্যন্ত তিনজন মারা গেছে, বুঝছেন? ওখানে গোলাগুলি চলতেছে।
নানক: তিনজন কারা? কারা মারা গেল?
নাছির: পথচারী আছে, ওদের একজন আছে, আমাদের একজন আছে। আর প্রচুর আহত হয়েছে। প্রচুর ইঞ্জুরড হইছে। হুম, না প্রচুর। দুই পক্ষই হইছে এখানে। ওইখানে আমরা একপাশে আছি মুরাদপুরে একপাশে, মোড়ের ওপাশে ওরা।
নানক: হ্যালো, ওহ জি, নাছির ভাই।
নাছির: জি, জি, জি।
নানক: আমাদের যেটা মারা গেছে, সেটার জানাজা-টানাজা করেন। ওইটাকে ইস্যু করেন।
নাছির: ঠিক আছে। ওইটাকে একটু ইস্যু করার চেষ্টা করতেছি। ওইটাকে এখন মেডিকেলে পাঠাইছে। ওইটা কনফার্ম করে, কনফার্ম করে তারপর ইয়া করি।
নানক: ওইটাকে ইস্যু করেন, ওইটাকে ইস্যু করেন, হ্যাঁ।
নাছির: ঠিক আছে, ঠিক আছে, ঠিক আছে।
তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই বেলা ১টা ৫৩ মিনিটে ৫৪ সেকেন্ডের ফোন আলাপ হয়।
আসাদুজ্জামান খান কামাল: হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম। হ্যালো।
ওবায়দুল কাদের: ওয়ালাইকুম।
কামাল: জি, আসসালামু আলাইকুম।
ওবায়দুল কাদের: কামাল ভাই।
কামাল: জি, জি।
ওবায়দুল কাদের: কখন দিচ্ছেন?
কামাল: আমি তো এখনো ফাইল প্রসিডিউর প্রসেস করিনি। আমি এখন আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ফাইল প্রসেস শুরু করব।
ওবায়দুল কাদের: আজকে তো দেবেন।
কামাল: হ্যাঁ, আইনমন্ত্রী মহোদয় তাই বলছেন, আজকেই করবেন। আমি ওই ফাইলটা আমাদের এখান থেকে যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর একটা ইনিশিয়াল হওয়ার পরেই এটা আপনার ফাইনাল হবে।
ওবায়দুল কাদের: তার মানে রাতের আগে হচ্ছে না।
কামাল: রাতের আগে হবে না। এটা যথার্থই বলেছেন।
ওবায়দুল কাদের: আচ্ছা।
কামাল: আচ্ছা, জি। আসসালামু আলাইকুম।
রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটন এবং ওবায়দুল কাদেরের ফোন আলাপ ২ মিটিট ২০ সেকেন্ডের। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টা ১৮ মিনিটে তারা কথা বলেন।
খায়রুজ্জামান লিটন: আসসালামু আলাইকুম।
ওবায়দুল কাদের: রাজশাহী, তোমাকে এত করে বললাম।
লিটন: আমরা এখন রাজশাহীতেই জিরো পয়েন্টে আমাদের পার্টি অফিসের অবস্থানে। এখানে যারা ছিল তাদেরকে সরাই দেওয়া হয়, তারা চলে গেছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওইদিকে চলে গেছে। শহরটা আমাদের হাতেই আছে।
ওবায়দুল কাদের: শহর আছে কিন্তু ইউনিভার্সিটি তো ওরা দখল করেছে।
লিটন: ইউনিভার্সিটি থেকে প্রশাসনকে আমরা বার বার বলছি একটু তাদের সহযোগিতা লাগবে। সেটাও থেকেও তাদেরকে মানে ‘ই’ করা যাবে।
ওবায়দুল কাদের: তাহলে ডিআইজি কী বলেন?
লিটন: পুলিশ কমিশনার তো নাই। এডিশনাল পুলিশ কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি, র্যাব, সবাইকে জানিয়েছি।
তারা একটু স্লো যাচ্ছে, বুঝলাম না কেন।
ওবায়দুল কাদের: এখন রাজশাহী ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ খবর কী?
লিটন: সর্বশেষ খবর এখন যে ওরা এই আমাদের আশেপাশে কোথাও তো সেভাবে জমায়েত এখন করে নাই। ব্যাক করে গেছে ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাসটা ওদের হাতে চলে গেছে, এখনো আছে। সেখানে ভাইস চ্যান্সেলর ঢাকাতে আছেন, উনি রওনা হয়েছেন। তিনি আসলে আমরা মিলিত হয়ে একটা অ্যাকশনে যেতে হবে।
ওবায়দুল কাদের: ক্যাম্পাসটা এখন ওনাদের কন্ট্রোলে।
লিটন: এখন ওরা ওদের সংখ্যা অনেক বেশি, ওরা এখানে আছে। আমাদের ছাত্রলীগ ওদের সঙ্গে প্রথম দফা লড়াই করেছিল, একটু গিয়েছিল। একটু এখন সমস্যা আছে। আমরা আবার ইয়ে করছি, প্রস্তুতি নিচ্ছি আবার।
ওবায়দুল কাদের: সিটি এবং আশেপাশে জেলা চাঁপাই, নওগাঁ এসব জায়গা থেকে লোকজন এনে পারা যায় না?
লিটন: ইনশাল্লাহ, পারা যাবে।
ওবায়দুল কাদের: তাহলে একটু দেখো ক্যাম্পাসটা পুনরুদ্ধার কর।
লিটন: জি, জি, ইনশাল্লাহ। ঠিক আছে, জি।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে ৪৬ সেকেন্ডের ফোন আলাপ সংঘটিত হয় বিকাল পাঁচটা তিন মিনিটে।
জুনাইদ আহমেদ পলক: আসসালামু আলাইকুম। ভাই, আসসালামু আলাইকুম। ভাই, আসসালামু আলাইকুম। জি আসসালামু আলাইকুম, ভাই। পলক বলছি।
ওবায়দুল কাদের: এটা একটু স্লো করে দাও।
জুনাইদ আহমেদ পলক: জি।
ওবায়দুল কাদের: ইন্টারনেট।
পলক: একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই।
ওবায়দুল কাদের: নিয়ে নাও।
পলক: আচ্ছা ঠিক আছে। জি, আচ্ছা ঠিক আছে।
ওবায়দুল কাদের: উনি যে আমাকে বলতেছেন তোমার।
পলক: হ্যাঁ একটু ওই যে, মানে বলা আছে তো যে, উনি না বললে
ওবায়দুল কাদের: না, না, উনাকে জিজ্ঞেস করেই বলবা।
পলক: আচ্ছা ঠিক আছে জি। জি স্যার। জি স্যার। জি, আসসালামু আলাইকুম। আসসালামু আলাইকুম।


