বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক উন্নয়ন, বৃত্তি এবং একাডেমিক বিনিময় জোরদারে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও চীনের তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
এ সমঝোতার আওতায় আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।
রোববার চীনের তিয়ানজিনে ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সফরকালে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস প্রেসিডেন্ট মিং দং।
বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব জরুরি। তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ সহযোগিতা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তিনি ইউজিসি ও তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ অর্থায়নে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে যৌথ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি প্রকৌশল, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মানবিকসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে শিক্ষক ও গবেষকদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও কনফুসিয়াস ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি জানান, ইউজিসি দেশের প্রায় ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা করেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দক্ষ শিক্ষক, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও একাডেমিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশে দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে গবেষণাগার স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়, যাতে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ে।
তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মিং দং বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে স্নাতকোত্তর শিক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, একাডেমিক মোবিলিটি ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক লিকিয়াং জানান, বর্তমানে প্রায় ৭০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ভর্তি করাতে বিশ্ববিদ্যালয়টি আগ্রহী।
সমঝোতা স্মারকে স্নাতকোত্তর শিক্ষা, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন, চীনা ভাষা শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার একটি বিস্তৃত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


