হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার (যুদ্ধে ব্যবহৃত আধুনিক হেলিকপ্টার) ভূপাতিতের পর ইরানের কেশম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী বন্দরনগরী সিরিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, প্রণালিতে ইরানি হামলায় মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এর জবাব হওয়া উচিত খুবই শক্তিশালী ও অত্যন্ত কঠোর। আর এই হামলাটি (কেশম দ্বীপে পাল্টা হামলা) ঠিক তেমনই।’
এদিকে স্থানীয় সূত্র ও বাসিন্দাদের বরাতে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের কাছাকাছি বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখের কাছে অবস্থিত জাস্ক অঞ্চলের আশপাশেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।
প্রাথমিক হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুঁশিয়ারিমূলক এক বার্তায় বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির জবাব দেওয়া হবে এবং কোনো আক্রমণই উত্তরহীন থাকবে না।’
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরে ইরানি হামলার পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘হামলার আগেই সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং জনগণকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
এর কিছুক্ষণ পর বাহরাইনের রাজার তথ্য উপদেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘বাহরাইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের হামলা প্রতিহত করেছে।’
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর ও ভয়াবহ জবাব দেওয়া হবে।
কেবল বাহরাইনই নয়, ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার আইআরজিসি জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
খবরে বলা হয়, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পরিচালিত এই হামলায় মোট চারটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং ঘাঁটির কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।
তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কুয়েতেও ইরানি হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণকে সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
এর আগে ইরানের গণমাধ্যম আইআরজিসির বরাতে জানায়, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলি আল-সালেম সামরিক ঘাঁটিকে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরপরই কুয়েতের সেনাবাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে।


