রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিবছর এক কোটি টাকার বেশি ইন্টারনেট ফি আদায় করা হলেও ধীরগতি, ঘন ঘন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং রাউটার সংকটের মতো সমস্যা লেগেই আছে। এতে শিক্ষার্থীদেরে একাডেমিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার। আবাসিক ও অনাবাসিক সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই প্রতিবছর ইন্টারনেট ফি বাবদ ১৮০ টাকা এবং ইন্টারনেট সংযোগ ও রক্ষণাবেক্ষণ ফি বাবদ ১৫০ টাকা নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থী প্রতি ৩৩০ টাকা হিসাবে বছরে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা আয় হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। তবে দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মোবাইল ডেটার পেছনে খরচ করতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মেহেদী মারুফ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘গবেষণা ও পড়াশোনার জন্য ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিক্ষার্থীরা মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট নিশ্চিত করা।’
রহমতুন্নেসা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, ‘ল্যাপটপের পাশাপাশি ফোনেও ঠিকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না। থিসিস, গবেষণা ও পড়াশোনার জন্য ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ। তাই আইসিটি সেন্টারের কার্যক্রমে নজরদারি করে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা উচিত।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রায় প্রত্যেক প্রার্থীই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে রাকসুর কার্যক্রম শুরুর প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।
রাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ইন্টারনেট ফি আইসিটি সেন্টারের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করা হয়। আগের পরিচালকের কাছে একাধিকবার এই অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে পারেননি। নতুন পরিচালক মাত্র এক সপ্তাহ আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। তার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।’
ইন্টারনেট উন্নয়নকে নিজের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা উল্লেখ করে তোফা বলেন, গত জানুয়ারিতে রাকসু ও বিডিআরইএন যৌথভাবে সার্ভে করে। এরপর ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়, যা ইউজিসি অনুমোদন করেছে। অর্থ পাওয়া ও ই-জিপি প্রক্রিয়া শেষ হলে পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
অনাবাসিক শিক্ষার্থী এহসানুল হক দিনারের প্রশ্ন, হলে আসন না থাকায় তাকে কেন ইন্টারনেট ফি দিতে হবে। তার মতে, এটা অযৌক্তিক।
আরেক অনাবাসিক শিক্ষার্থী তুষার ইমরান বলেন, ‘যারা হলের এসব সুবিধা ব্যবহার করেন, শুধু তাদের কাছ থেকেই এসব ফি নেওয়া উচিত।’
অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইন্টারনেট ফি নেওয়া কতটা যৌক্তিক–এ প্রশ্নে রাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আমিও জানতে চেয়েছি, কিন্তু এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, প্রতি বছর ফি না নিয়ে ভর্তির সময় এককালীন ইন্টারনেট ফি নেওয়া যেতে পারে।’
এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ইন্টারনেটের বিষয়টি আমি ভিসি স্যারের নজরে দিয়েছি। আশা করি, অতি শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাসনাত কবীর বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। তাই প্রথমে বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝে নিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আমার চেষ্টার কোনো কমতি থাকবে না বলে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’


