ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপককে স্থায়ী বহিষ্কার এবং ছয়জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্তকে সংগঠনটি আইন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে এ পর্যন্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ১০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শিক্ষক সমিতি জানায়, ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় একজন অধ্যাপককে স্থায়ী বহিষ্কার এবং ছয়জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে গত ২২ জুন সিন্ডিকেটের আরেক সভায় তিনজন শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত কমিটি ও ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার আগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আত্মপক্ষ সমর্থন, অভিযোগের জবাব দেওয়া কিংবা অভিযোগকারীদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ না দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী।
শিক্ষক সমিতির দাবি, পূর্ববর্তী প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিমালা উপেক্ষা করে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রেখেছিল এবং বিভিন্নভাবে তাদের সামাজিকভাবে হেয় করার পরিবেশ তৈরি করেছিল। বর্তমান প্রশাসনও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন মত, পথ ও দর্শনের সহাবস্থানের স্থান। পরমতসহিষ্ণুতা, বহুত্ববাদ, স্বাধীন গবেষণা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক চেতনা। রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভিন্নমত দমন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শিক্ষকসমাজের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার সংস্কৃতি তৈরি করবে, যা ভবিষ্যতের জন্য অশুভ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
২৮ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় পৃথক অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং আরও চার শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, নৈতিক স্খলন, অশিক্ষকসুলভ আচরণ, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন সাদেকা হালিম, মো. শফিকুল ইসলাম ও আফরোজা শেলী। এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


