কাফনের কাপড় পাঠিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনকে হত্যার হুমকি

কাফনের কাপড় পাঠিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনকে হত্যার হুমকি
উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মীর খোরশেদ আলম। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

হবিগঞ্জে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মাধবপুর উপজেলার আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মীর খোরশেদ আলমকে কুরিয়ারের মাধ্যমে একটি পার্সেল পাঠানো হয়। সেটিতে খোরশেদ আলমসহ আরও ১২ জনের নামে আলাদা খামে একটি করে চিঠি ও কাফনের কাপড়ের টুকরো পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শনিবার রাতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মাধবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন খোরশেদ আলম।

এর আগে, দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন তিনি। স্ট্যাটাসে খোরশেদ আলম লেখেন, ‘কে বা কারা এই ঘটনার পেছনে আছেন, অনুগ্রহ করে সামনে আসুন। যদি আমার কাছে কোনো অভিযোগ বা দাবি থেকে থাকে, তাহলে সরাসরি এসে কথা বলুন। আমার জানা মতে, আমি কারও কোনো ক্ষতি করিনি এবং কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতাও নেই। তাই এভাবে ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়ার পরিবর্তে সাহস থাকলে পরিচয় দিয়ে কথা বলুন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনছি। সত্য একদিন অবশ্যই প্রকাশ পাবে, ইনশাআল্লাহ।’

অন্যদিকে ১২ জনকে হুমকি দিয়ে পাঠানো চিঠিতে লেখা ছিল, ‘এই চিঠি পাওয়ার পর থেকে তুই তর জীবনের যত চাওয়া পাওয়া আছে সব করেনে। কারণ এই চিঠি পাওয়ার পর থেকে মাত্র কয়েকদিন বেঁচে থাকার সময় পাবি। আগুন নিয়ে খেলা করার পরিণাম কত ভয়ংকর, তা তুই এখন টের পাবি’।

তবে, শুধু খোরশেদ আলম নন, চিঠিতে আরও ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন, আনোয়ার হোসেন, মাহমুদ হোসেন, মিসির আলী, আব্দুল গফুর, কন্ট্রাক্টর মিজান, বজলু, সৈয়দ শিব্বির আহমেদ (ছোট সাহেব), সৈয়দ আনাস, সৈয়দ তালহা, সৈয়দ তানজির, সৈয়দ নোমান। পার্সেলে মোট ১২টি খাম ছিল এবং প্রত্যেকটি খামে  আলাদা চিঠি পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন

খোরশেদ আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার ডাকযোগে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একটি পার্সেল আসে। পার্সেলের ভেতরে একটি বেনামি চিঠির সঙ্গে এক টুকরো সাদা কাপড় ছিল, যার ওপর লেখা ছিল, ‘কাফনের কাপড়’। পার্সেলে মোট ১২টি হুমকিমূলক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও কঠোর পরিণতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আরও কয়েকজনের নামও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিটি চিঠির সঙ্গে একটি সাদা কাফনের কাপড়ের নমুনা পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার জানা মতে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। তারপরও এ ধরনের হুমকির ঘটনায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। বিষয়টি থানায় জিডি করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। আশা করছি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘পার্সেলের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনকে হত্যার হুমকির বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করা হয়েছে। কে বা কারা পার্সেলটি পাঠিয়েছে আমরা খতিয়ে দেখছি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad