রাজধানীর বাংলামোটরে এক যুবককে পিস্তলের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত, ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনকে চার দিন এবং সহযোগী তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
শুক্রবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন ওমর, মোর্শেদ ও মো. শাওন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নাসিম আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা। আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে হাতিরঝিল থানার বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে বাদী মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় প্রধান আসামি ফেরদৌস আহমেদ সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে না চাইলে সাইমন পিস্তল বের করে সোহানের বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে সাইমন পিস্তলের বাট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করেন। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। আহত সোহান স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
পরে সোহান উন্নত চিকিৎসার জন্য যেতে চাইলে সাইমনসহ অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে আবারও তাকে মারধরের চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে সোহানের ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয়। এ সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে কয়েকজনকে আটক করেন। পালানোর চেষ্টাকালে সাইমনও আটক হন। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার অন্যান্য তথ্য উদ্ধারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে বাংলামোটরে এক যুবককে মারধর ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনায় সাইমনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান।


