পূর্ব সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে একদল বনদস্যু। তবে বনরক্ষীদের প্রতিরোধের মুখে দস্যুরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। শনিবার রাত ৯টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা পর্যটন কেন্দ্রের নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার তানভির হাসান ইমরান রাত সাড়ে ৯টায় মোবাইল ফোনে জানান, বনদস্যুরা একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে রাত ৯টার দিকে কটকা নদীতে নোঙর করে থাকা পর্যটকবাহী জাহাজ দি ওয়েভ-২ এ দিকে আসছিলো। বিষয়টি টের পেয়ে কটকার মোহনায় অবস্থানরত জেলেরা মোবাইল ফোনে বনরক্ষীদের জানান। সঙ্গে সঙ্গে বনরক্ষীরা টহল বোট নিয়ে কটকা নদীর প্রবেশমুখে অবস্থান নেন। এসময় দস্যুরা ট্রলার নিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজের দিকে আসার চেষ্টা করলে বনদস্যুদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউণ্ড গুলি বর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে গুলির মুখে বনদস্যুরা তাদের গতিপথ ঘুরিয়ে দ্রুত গতিতে ট্রলার চালিয়ে সাগরের দিকে চলে যায়। বনরক্ষীরা ৪ রাউন্ড গুলি করেছে বলে জানান ঐ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
পর্যটকবাহী জাহাজ ‘দি ওয়েভ-২’ এর মাষ্টার মো. শামিম আলম মোবাইল ফোনে জানান, জাহাজের দিকে ডাকাত আসছে বলে বনরক্ষীরা আগেই তাকে জানিয়েছেন। কটকায় বর্তমানে ওয়েভ-২ এবং ‘আরাল সী’ নামে পর্যটকবাহী দুটি জাহাজ কটকায় অবস্থান করছে। দুটি জাহাজে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৯৭ জন পর্যটক রয়েছেন বলে ওয়েভ-২ এর মাষ্টার জানান। দস্যুদের নাম শুনে পর্যটকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তবে বনরক্ষীদের কঠোর এবং সাহসী ভুমিকায় পর্ষটকরা রক্ষা পেয়েছেন বলে জানান ওই জাহাজ মাষ্টার।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী কটকায় পর্যটকবাহী জাহাজে বনদস্যুতার চেষ্টা খবরটি নিশ্চিত করেছেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, সুন্দরবনে এখন পর্যন্ত পর্যটকবাহী কোনো জাহাজে ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। পর্যটকবাহী জাহাজে এটাই ছিল দস্যুদের প্রথম চেষ্টা। তবে জেলেদের মাধ্যমে আগাম খবর পাওয়ায় কটকার বনরক্ষীরা দস্যুদের চেষ্টা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছে। কটকা নদীতে টহল জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রেজাউল করিম।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। দস্যুরা জেলেদের ধরে নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছে। দস্যু দমনে সুন্দরবনে কোষ্ট গার্ডের রাত্রিকালীন টহল চালু করা দরকার বলে জানান তিনি।


