গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে হাজিরা দিতে আনার পর পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ মাদক কারবারি পিচ্চি রাজাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার ও ভ্যানচালক নায়েক কামাল হোসেন।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই দুই পুলিশ সদস্যই পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে পালানোর নাটক সাজানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পিচ্চি রাজা গাজীপুরের বাইমাইল থেকে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়েছিলেন।
পুলিশ ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে রাতে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান।
ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রিজন ভ্যানটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে পিচ্চি রাজা শৌচকর্মের কথা বলেন। পরে দায়িত্বে থাকা এসআই তাকে ভ্যান থেকে নামালে তিনি কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় ভ্যানে থাকা অন্য ২৯ আসামিকে পরে কারাগারে নেওয়া হয়।
তবে তদন্তে পুলিশের দেওয়া ওই বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া যায়। পিচ্চি রাজা ঠিক কোথা থেকে পালিয়েছেন, সে বিষয়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দেন। একপর্যায়ে তদন্তসংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হন, বাইমাইল থেকে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই তিনি পুলিশের হেফাজত থেকে বের হয়ে যান।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ঘটনা তদন্তে গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি।
জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে পিচ্চি রাজাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার ও নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি তিন পুলিশ সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, প্রিজন ভ্যানে দায়িত্ব থাকা পুলিশ সদস্যরা বলেছেন পিচ্চি রাজা গাজীপুর থেকে পালিয়েছেন কিন্তু আমাদের তদন্তে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন। এই বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, প্রিজন ভ্যানে কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারে ফেরার পথে কোথাও থামার সুযোগ নেই। বড় ধরনের কোনো সমস্যা হলে নিকটবর্তী থানায় থামাতে হবে। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা যে স্থানে গাড়ি থামানোর কথা বলেছেন, সেখানে থামানোর প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণের কাজ শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এরপর বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু হবে।
মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে চলতি বছরের ১৯ মে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজিরা শেষে কাশিমপুর কারাগারে ফেরার পথে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


