হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবিপ্রধান (অতিরিক্ত কমিশনার) শফিকুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে এদিন তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব। মামলায় তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও কর্মকর্তা লাঞ্ছনার অভিযোগ আনা হয়। মামলার এজাহার আদালতে পৌঁছানোর পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তা গ্রহণ করেন। পরে বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলামকে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় দেয় আদালত। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক এ তথ্য জানান।
এদিকে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার টাইমসকে জানান, সন্ধ্যায় আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জনের একটি প্রতিনিধিদল সপরিবারে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ ও ৯টা ৮ মিনিটে পার্কিং করে।
ইমিগ্রেশন শেষে প্রবাসীরা ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় লাগেজ সংগ্রহে গেলে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রলি সংকট তৈরি হয়। ওই সময় প্রটোকল সহকারীরা লাইনের নিয়ম ভঙ্গ করে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা চালান। লাগেজ ও জমজমের পানি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরে পৌঁছে নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। নির্বাহী পরিচালক ১০টা ৪৬ মিনিটে উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত চাপ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আখতারুজ্জামান হঠাৎ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন এবং চরম অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। পরিস্থিতি মারমুখী হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে সরিয়ে নেন। পরবর্তী সময়ে আখতারুজ্জামান সিভিল এভিয়েশন ও পর্যটনমন্ত্রীকে নিয়েও অত্যন্ত অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা কেপিআই ভুক্ত এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও করতে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। পরবর্তী সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধির সঙ্গেও তিনি অশালীন আচরণ করেন এবং অন্য সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ও পাত্র ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন করেন।


