চট্টগ্রামের উপকূলীয় পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য ও গৃহস্থালি বর্জ্য ক্রমাগত বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এবং আশপাশের শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত বর্জ্য তরল ড্রেন ও খালের মাধ্যমে সরাসরি সাগরে গিয়ে পড়ছে। আউটার রিং রোড ও দক্ষিণ হালিশহর উপকূলজুড়ে ধারণ করা ড্রোনের ছবিতে মাছ ধরার নৌকার কাছাকাছি সাগরের পানিতে কালো, বিষাক্ত বর্জ্যের প্রবাহ ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে, যা উপকূলীয় পানিকে দৃশ্যত দূষিত করছে।

রাসায়নিক ও ভারী ধাতুসমৃদ্ধ এই দূষণ সামুদ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করছে। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে, যার ফলে এমন ‘মৃত অঞ্চল’ তৈরি হচ্ছে যেখানে জলজ প্রাণীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। অগভীর এসব উপকূলীয় জলরাশি মাছের প্রজনন ও পোনা বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দূষণ অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে মাছের মজুত মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে।

এর প্রভাব শুধু পরিবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইতোমধ্যে হাজার হাজার জেলে পরিবার এর প্রভাব অনুভব করছে। উপকূলের কাছাকাছি মাছ কমে যাওয়ায় অনেক জেলে বেশি ঝুঁকি নিয়ে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ করে আরও দূরে সাগরের আরও গভীরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে সামুদ্রিক খাবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ দূষিত পানি থেকে ধরা মাছের শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ ভোক্তাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বঙ্গোপসাগর যখন নিয়ন্ত্রণহীন বর্জ্যের ভার ক্রমাগত বহন করে চলেছে, তখন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং সামুদ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থার স্বাস্থ্য—দুটিই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।


