তিন দফা দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন তারা।
রোববার বেলা ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। তাদেরকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে, দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এর আগে শনিবার শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের পদত্যাগ দাবি করেছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ।
রোববার সংগঠনের পক্ষে শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
এদিকে, শনিবার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আন্দোলনরত পাঁচ শিক্ষককে আটক করে থানায় রাখা হয়েছিল। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুরও শিক্ষকদের ১৮ ঘণ্টা আটক রাখার কথা স্বীকার করেছেন।
মধ্যরাতে খবর আসে, প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমানসহ আটক পাঁচ শিক্ষকের মুক্তি, আহত শিক্ষকদের উন্নত চিকিৎসা এবং আগের দাবিগুলো পূরণের নিশ্চয়তা পেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষকরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের অন্যতম মুখপাত্র ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি চাই না। কিন্তু শিক্ষকরা যেভাবে নিপীড়িত হয়েছেন তা অনাকাঙ্ক্ষিত। এটা মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশের হামলায় একজন শিক্ষকের দুটি পা ভেঙে গেছে। কয়েকজন শিক্ষকের আঘাত এতটাই গুরুতর যে তারা চোখে দেখছেন না। শতাধিক শিক্ষকের রক্তক্ষরণ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শাহবাগ থানায় আটক শিক্ষক মাহাবুব “প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ”-এর পাঁচজন আহ্বায়কের অন্যতম একজন। তাকে আটকে রেখে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বাকি চারজনকে নিয়ে অনশনে বসেছেন। আমরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থানরত শিক্ষকরা তাদের মুক্তির দাবিতে রাত ১২টায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছি।’
সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকরা চাকরি ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি এবং চাকরির ১০ম ও ১৬তম বছরে উচ্চতর গ্রেডের নিশ্চয়তার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
শিক্ষকদের চারটি আলাদা সংগঠন একত্রিত হয়ে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ ব্যানারে একটি মোর্চা গঠন করে আন্দোলন শুরু করে। চারটি সংগঠন হলো–প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) এবং সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ।
পূর্বঘোষিত তিনটি দাবি পূরণের লক্ষ্যে শুক্রবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন শিক্ষকরা। শনিবার বিকালে শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দিলে তারা জাদুঘর প্রাঙ্গণে থেমে যান। পরে শিক্ষকরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রার ঘোষণা দেন। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জল কামান নিক্ষেপ করে।
এরপরেই ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর সভাপতি আবুল কাশেম কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।


