বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছেছে। এ নিয়ে চলতি মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ১৩ হাজার মেট্রিক টন এবং চলতি বছরে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হলো।
রোববার সকালে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্র থেকে পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ এপ্রিল ৮ হাজার মেট্রিক টন এবং গতকাল ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে। এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়।
উল্লেখ্য, দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তিন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাকে সরবরাহ করা হয়।
উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ এই পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।
দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর ডিজেল সরবরাহ করবে। প্রাথমিকভাবে বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও পরে চাহিদা অনুযায়ী পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানি সম্ভব। পূর্বে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেলওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল পৌঁছাতে ৬-৭ দিন সময় লাগত।


