ভারী বৃষ্টি এবং গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ঢাকার বেইলি রোড, মৌচাক, শান্তিনগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা। জলাবদ্ধতার কারণে কোথাও কোথাও তীব্র যানজটও দেখা দিয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে সরেজমিন এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায় সড়কে জমে থাকা পানির কারণে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে অনেককে। যারা হেঁটে চলাচল করতে পারছেন না, তারা বাধ্য হয়ে রিকশার ওপর নির্ভর করছেন। তবে এ সুযোগে অনেক রিকশাচালক স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তিন গুণ, চারগুণ পর্যন্ত ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
শান্তিনগরের বাসিন্দা মুখলেছুর রহমান জানান বাসার সামনের সড়ক হাঁটুসমান পানিতে ডুবে যাওয়ায় তাকে সেই পানি মাড়িয়েই বের হতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়। পানি নামতে অনেক সময় লাগে। তখন আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।’
জলাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু থাকায় অভিভাবকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শান্তিনগর এলাকার এক অভিভাবক বলেন, ‘রাস্তা ডুবে গেলেও স্কুলের পরীক্ষা বন্ধ হয়নি। তাই ভোগান্তির মধ্যেই সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে।’
টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ও। শান্তিনগর মোড়ের কনফেকশনারি ব্যবসায়ী আবুল মালেক বলেন, ‘সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে বিক্রি প্রায় বন্ধ। কয়েক দিন ধরেই দোকানের সামনে পানি জমে থাকছে। খাবারের দোকান হওয়ায় অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
একই এলাকার এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে ব্যবসা খুব খারাপ যাচ্ছে। দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতারা দোকানেই আসতে পারছেন না।’
এদিকে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকায় ভরসা করতে হচ্ছে রিকশার ওপর। এমন দুর্যোগের সময়ে রিকশাভাড়া বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসফিয়া রশিদ বলেন, ‘গলির শেষ মাথাতেই আমার বাসা। সাধারণ সময়ে যেখানে ২০ টাকা ভাড়া লাগে, সেখানে এখন ৮০ টাকা চাচ্ছে।’
জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়। তার সঙ্গে সাপ্তাহিক কর্মদিবসে অফিসগামী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ যোগ হওয়ায় বেইলি রোড, কাকরাইল, মৌচাক, শান্তিনগর ও নয়াপল্টন এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি কাজে বের হওয়া নগরবাসীকে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে দেখা যায়।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হলেও কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।


