মিরপুরে আগের ম্যাচে কেটেছে ১৩ ইনিংসের ফিফটি খরা। এবার চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ২০ ইনিংস পর সেঞ্চুরির দেখা পেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বৃহস্পতিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি, লিটন দাসের ৭৬ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগলেও ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
মিডল ওভারে খেলার নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের দিকে থাকলেও শেষ ১০ ওভারের ব্যাটিংই বঞ্চিত করেছে বাংলাদেশকে ৩০০ ছোঁয়া সংগ্রহে যেতে। ডেথ ওভারে পড়েছে ৪ পড়েছে মাত্র ৬১ রানের মধ্যে।
চট্টগ্রামের ফ্ল্যাট উইকেটে শান্ত যখন উইকেটে যান, তখন উইল ও’রোর্কের তোপে ৯ রানে প্রথম দুই ব্যাটার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। উইকেটে সেট হয়েও ব্যক্তিগত ১৮ রানে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। সেখান থেকে লিটনকে সাথে নিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়েন শান্ত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে গড়েছেন রেকর্ড ১৬০ রানের জুটি। এর আগে এতদিন এই রেকর্ড ছিল মুশফিকুর রহিম ও নাঈম ইসলামী দখলে। ২০১৩ সালে মিরপুরে ১৫৪ রানের জুটি গড়েন তারা।
উইল ও’রোর্কের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ব্লক করতে চেয়ে উইকেটকিপার টম ল্যাথামের হাতে রানের খাতা খোলার আগেই ক্যাচ দেন সাইফ হাসান। পরের ওভারে আক্রমণে ফিরে উড়িয়েছেন আগের ম্যাচে ৭৬ রানের দারুণ ইনিংস খেলা তানজিদের স্টাম্প। যদিও অফ স্টাম্পের বাইরের বলে থার্ড ম্যানে খেলতে গিয়ে ইনসাইড এজে ১ রানে বোল্ড হয়েছেন তিনি। সৌম্যও ফিরেছেন একইভাবে। ৩৬ রানের ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ।
শুরুর ধস সামলে ইনিংস টেনে নিয়ে যান শান্ত। ১৬০ রানের জুটিতে ৮৭ বলে ৮২ রান তার, অন্যপ্রান্তে লিটনের ব্যাট থেকে ৯১ বলে আসে ৭৬ রান। উইকেটে টিকে থেকে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস বড় করতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। স্ট্রাইক রোটেটকে প্রাধান্য দিয়ে গড়া এই ইনিংস থেমেছে জেইডেন লেনক্সকে ইনসাইড আউট করে তুলে মারতে গিয়ে স্টাম্প খুইয়ে।
লিটন ফিরলেও সেঞ্চুরি বঞ্চিত হননি শান্ত। ১১৪ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ছুঁয়েছেন চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলংকাএর বিপক্ষে এই চট্টগ্রামেই সর্বশেষ সেঞ্চুরি ছুঁয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। সেঞ্চুরির পর রানের গতি বাড়াতে গিয়ে হাত খুলে খেলা শুরু করেন শান্ত, তবে থামতে হয়েছে সেই লেনক্সকে মারতে গিয়েই। ব্যক্তিগত ১০৫ রানের সময় এই বাঁহাতি স্পিনারকে লং অনে লফটেড শটে সীমানাছাড়া করতে চেয়ে নাথান স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন শান্ত।
শান্ত ফেরার পর উইকেটে আসেন অধিনায়ক মিরাজ, সাতে নেমে ১৮ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাওহিদ হৃদয় অপরাজিত থাকেন ২৯ বলে ৩৩ রানে। সাইফ, তানজিদ ও সৌম্যর উইকেটে নিয়ে কিউইদের সেরা বোলার ও’রোর্ক। দুটি করে উইকেট নেন লিস্টার ও লেনক্স।


