ছাত্রলীগের পরিবর্তে ছাত্রদল যদি একই ধরনের দখলদারি ও হামলার রাজনীতি করে, তবে কেবল দলের নাম বদলাবে, কিন্তু চরিত্র বদলাবে না–এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর এমন বাংলাদেশ কেউ চায়নি।’
শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা প্রেস ক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে–তা কেবল সরকার বা রাজনৈতিক দলের হাতে ছেড়ে না দিয়ে তরুণদের এর পাহারাদার হতে হবে।
নিজের দেওয়া ভোটের একটি অংশ মেনে অন্য অংশ অস্বীকার করা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একই মায়ের পেটে জন্ম নেওয়া জমজ দুই সন্তানের একজনকে স্বীকার করে অন্যজনকে অস্বীকার করার মতো ঘটনা ঘটছে। একই দিনে হওয়া জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফলের একটি গ্রহণ করে অন্যটি অস্বীকার করা যায় না।’
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপির নেতারা জুলাই সনদ মানার কথা বললেও গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। গণভোটের রায়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক পদে নিয়োগ এবং সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, নতুন দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, লুটপাট, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও ভিন্নমতের ওপর হামলার কোনো স্থান নেই। ক্ষমতায় গিয়ে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যাওয়াও রাজনীতির একটি বড় ব্যাধি। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে এসব সিন্ডিকেট ভাঙতে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। খুলনায় তরুণদের মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধের প্রশংসা করে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ দেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রদলের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা ও সংঘাতে জড়াচ্ছেন। সেখানে ছাত্রশিবির আগে হামলা করেনি, বরং আক্রান্ত হওয়ার পর প্রতিরোধ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, ছাত্রলীগের মতো একই রাজনীতি করলে কেবল নাম পরিবর্তন হবে, গুণগত পরিবর্তন আসবে না।
সরকারি বিভিন্ন পদে দলীয় লোক নিয়োগের অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক টেন্ডার ও অর্থ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অন্য দলীয় ব্যক্তিরা খবরদারি করছেন বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আগের দল ভাবত দেশটা তাদের বাপের। এখন দেশটা সবার। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’
সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের পরবর্তী নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং ৩১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামী যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মুকাররম আনসারীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, খুলনা মহানগর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত এবং খুলনা মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রাকিব হাসানসহ স্থানীয় নেতারা।


