রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সচিব ভুঁইয়া মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামির জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, আসামি ভূঁইয়া মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার প্রত্যেক পরামর্শ ও সহযোগিতায় ‘মঞ্চ ৭১’ নামক সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে। এ ছাড়া, আসামি এই মামলার এজাহারনামীয় আরেক আসামি লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে গোপন বৈঠক ও যোগাযোগ করেছেন মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে রাষ্ট্র তথা সরকারের বিরুদ্ধে পুনরায় যড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে এবং মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাবে। এ অবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে, মঙ্গলবার ভোরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আনন্দলোক ইকো রিসোর্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২৮ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে মামলার বাদী দেখতে পান, বেশকিছু লোক রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটরিয়ামে একত্রিত হয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছে এবং সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বক্তব্য দিচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে।
সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল, জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে একত্রিত করে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। তাদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠক আয়োজন করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই গোল টেবিল বৈঠকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ছাড়াও আরো ৭০-৮০ জন অংশগ্রহণ করে। পরে পুলিশ আসামিদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই মো. আমিরুল ইসলাম ২৯ আগস্ট বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।
ভূঁইয়া মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ছিলেন এবং ২০১৫ সালে তাকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব করা হয়।


