বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের মধ্যেই ১৪০ জন যাত্রী ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পৌঁছেছে তিনটি কাঠের সার্ভিস ট্রলার। প্রায় চার ঘণ্টা উত্তাল সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে শনিবার বিকালে ট্রলারগুলো নিরাপদে দ্বীপে পৌঁছায়।
এদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী নৌঘাট থেকে ট্রলার তিনটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ৩৬ কিলোমিটার উত্তাল সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বিকাল ৩টার দিকে যাত্রীসহ ট্রলারগুলো নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম।
উত্তাল সমুদ্রের কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে গত ১০ দিন ধরে যাত্রীবাহী ট্রলার ও সাধারণ নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও জরুরি কাজে টেকনাফে এসে আটকা পড়েন সেন্টমার্টিনের দেড় শতাধিক বাসিন্দা। দীর্ঘদিন হোটেল ও স্বজনদের বাড়িতে অবস্থান করতে গিয়ে তাদের অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েন।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার আটকে থাকা ১৪০ বাসিন্দাকে তিনটি ট্রলারে করে সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য মাহফুজা আক্তার বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে আটকে থাকা সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের ট্রলারে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে খাদ্যসামগ্রীও দেওয়া হয়েছে। বিকাল ৩টার দিকে ট্রলার তিনটি নিরাপদে সেন্টমার্টিন জেটিতে পৌঁছেছে।’
দ্বীপবাসীর দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সেন্টমার্টিনের মানুষের কষ্ট কেউ বোঝে না। কাজ নেই, আয় নেই। অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।’
টেকনাফের কায়ুকখালী নৌঘাটে সেন্টমার্টিন সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা মো. জুবাইর বলেন, ‘আটকে থাকা যাত্রীদের ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়। আল্লাহর রহমতে সবাই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের প্রায় ৩০০ পরিবারের জন্য খাদ্যসহায়তা পাঠানো হয়েছে। যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ ছিল এবং ট্রলারগুলো যথাসময়ে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ তাদের যাত্রা পর্যবেক্ষণে রয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বীপবাসীর আপাতত কোনো সংকট নেই। এরপরও তাদের সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে সমুদ্রবন্দরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতও তুলে নেওয়া হয়েছে।’


