বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর মওকুফের অর্থ শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণায় ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকারি কঠোর নিয়ন্ত্রণের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তদারকি বা ‘সেলফ-রেগুলেশন নিশ্চিত করা বেশি জরুরি।
রোববার গুলশানের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি’ (এপিইউবি) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ বাস্তবায়নে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক মূলধারার বাইরে থাকা সমস্ত খাত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জিডিপি মানে কেবল শিল্পকারখানার উৎপাদন নয়; থিয়েটার, মিউজিক, চারুকলা এবং গ্রামীণ কুটিরশিল্পের মতো বড় সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে আর্থিক মূল্যায়ন করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি)-এর চেয়ারম্যান মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর মওকুফের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘শিক্ষা একটি অলাভজনক খাত, এখানে মুনাফা খোঁজার সুযোগ নেই। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিপুল অভ্যন্তরীণ বকেয়া এবং প্রায় ২৩৫ বিলিয়ন ডলার পাচারের মতো কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমরা নীতিগত জায়গা থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত কর মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আগামী বছর থেকে এই ৫ শতাংশ করের টাকা আপনাদের কাছেই থেকে যাবে। তবে এই সাশ্রয় হওয়া অর্থ যেন শিক্ষার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বেঞ্চমার্ক অর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেটিং বাড়াতে গবেষণার কাজে ব্যয় করা হয়, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই বেসরকারি খাত-চালিত প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বাসী। সরকার একা সব করতে পারে না, সরকার কেবল সুবিধা দাতা। তাই দেশের টেকসই উন্নয়নে আমরা বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চাই।’
বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সরকারের নীতিমালায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, এবারের বাজেটে সবকিছু ৫ বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন।
আইসিটি খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ও স্থানীয় আইসিটি কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমাজে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সেদিকে নজর রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার আইন চাপিয়ে দিয়ে রেগুলেশন করায় বিশ্বাসী নয়। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং তাদের সমিতি ‘সেলফ-রেগুলেশন’ বা আত্ম-নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেদের সুশাসন নিশ্চিত করুক। পাশাপাশি দেশের নৈতিক অবক্ষয় দূর করতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মো. সবুর খান এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মামুন আহমেদ উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণার প্রসারে সরকারের এই সময়োপযোগী ও বেসরকারি খাত-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন এবং জাতীয় উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


